সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার দুই দেশের সরকারের পারস্পরিক সমঝোতা ছাড়া বাংলাদেশে এসে সরাসরি আত্মসমর্পণের কোনো আইনি সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।
রোববার (১২ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের পর থেকে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার হয়েই কারাগারে যেতে হবে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “শেখ হাসিনা ভারত সরকারের আশ্রয়ে নির্বাসনে আছেন। ব্যক্তিগতভাবে এসে স্বাধীনভাবে আত্মসমর্পণের কোনো আইনি সুযোগ নেই। নির্বাসনে থেকে তাকে দণ্ডিত ব্যক্তি হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েই আসতে হবে। তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে হলে ভারত সরকারকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর (হ্যান্ডওভার) করতে হবে।”
এ সময় তিনি জানান, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হবে।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনাসহ ট্রাইব্যুনালে চলমান গুরুত্বপূর্ণ ১০টি মামলার তদন্তও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এসব মামলার তদন্ত প্রতিবেদনও শিগগির ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৯ জুলাই ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স-কে দেওয়া প্রায় এক ঘণ্টার টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানান, তিনি আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাসিত আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারাও তার সঙ্গে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশ ছাড়ার পর এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সরাসরি সাক্ষাৎকার দেন শেখ হাসিনা।