আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, এক টাকা বরাদ্দ দিয়ে আইন ও বিচার বিভাগ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে দেশ কার্যত একটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হবে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ১৯তম কার্যদিবসে আইন ও বিচার বিভাগের বাজেটের ওপর আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
এদিন আইনমন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের জন্য ২ হাজার ১৮৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকার মঞ্জুরি দাবি উপস্থাপন করেন। এ সময় বিরোধীদলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য বরাদ্দ কমিয়ে প্রতীকীভাবে ১ টাকা করার প্রস্তাব দেন এবং বিচার বিভাগের বিভিন্ন সংকট তুলে ধরেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য আল ফারুক আব্দুল লতিফ বলেন, নিম্ন আদালত পৃথক হলেও পদোন্নতি ও বদলির ক্ষেত্রে সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকায় বিচার বিভাগ পুরোপুরি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। তিনি বিচারক সংকট, মামলাজট এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বলেন, দেশে ২৫ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন থাকলেও বিভাগীয় শহরে হাইকোর্ট বেঞ্চ স্থাপন কিংবা পেপারলেস জুডিশিয়ারি গড়ে তোলার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কেরামত আলী থানা-পুলিশের কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের হয়রানি এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার দুর্বলতার বিষয়টি তুলে ধরেন।
অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, বিচার বিভাগের বরাদ্দ জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ, যা বিটিভির বরাদ্দের চেয়েও কম। তিনি দেশে বিপুল মামলাজট এবং প্রবীণ ও শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের দুরবস্থার কথাও উল্লেখ করেন।
এসব বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো পরস্পরবিরোধী। কেউ বলছেন বরাদ্দ বেশি, তাই ১ টাকায় নামিয়ে আনা হোক; আবার কেউ বলছেন বরাদ্দ কম, তাই ১ টাকায় নামিয়ে আনা হোক।তিনি বলেন, “এক টাকা দিয়ে যদি আইন ও বিচার বিভাগ চালাতে বলা হয়, তাহলে বিচার বিভাগের আর প্রয়োজন থাকবে না। দেশ একটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হবে।”
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো কার্যপ্রণালী বিধির ১১৮ বিধির পরিপন্থি এবং এতে বিচার বিভাগ পরিচালনার কোনো বাস্তবসম্মত বিকল্প পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়নি।
তিনি স্বীকার করেন, বর্তমান বাস্তবতায় বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তবে বিদ্যমান আর্থিক পরিস্থিতিতে এই বরাদ্দই বহাল রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো নাকচ করার অনুরোধ জানান।