প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নতুন আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানসহ এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রপ্তানি বাড়াতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় শ্রমবাজারকে আরও কার্যকর করতে সারা দেশে 'এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার' স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বিকল্প শ্রমবাজার সম্প্রসারণে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে দক্ষ কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। থাইল্যান্ডের সঙ্গে কর্মী নিয়োগ–সংক্রান্ত চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া দেশটির সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, মালয়েশিয়া, ওমান, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্ধ বা সংকুচিত শ্রমবাজার পুনরায় চালুর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর বিষয়েও আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে স্থানীয় শ্রমবাজারের চাহিদা নিরূপণ করে জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী 'এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার' স্থাপনের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব কেন্দ্র চালু হলে চাকরিপ্রত্যাশীরা কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত তথ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও চাকরির সুযোগ সহজে পাবেন। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজার আরও কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক হবে।
তিনি জানান, গত ১৮ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-কাতার সপ্তম যৌথ কমিটির বৈঠকে কাতারের শ্রমমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পেশায় দক্ষ কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, উত্তর মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া, মরিশাস ও পর্তুগালসহ যেসব ইউরোপীয় দেশে দক্ষ কর্মী পাঠানোর সুযোগ রয়েছে কিন্তু বাংলাদেশে তাদের ভিসা সেন্টার নেই, সেসব দেশের ভিসা সেন্টার ঢাকায় স্থাপনের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে।
তিনি জানান, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে চলতি বছরের ৫ ও ২৪ মার্চ এবং ৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ধারাবাহিক বৈঠকে বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালু ও নতুন বাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় মৌসুমি কর্মী পাঠাতে দেশটির বিভিন্ন স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কার্যক্রম চলছে। ইতোমধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল-এর মাধ্যমে মৌসুমি কর্মী পাঠানো শুরু হয়েছে। জাপানে কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে 'জাপান সেল' গঠন করা হয়েছে। এই সেলের আওতায় জাপানে কর্মী প্রেরণকারী ৯৬টি সেন্ডিং অর্গানাইজেশন, ২০০টির বেশি বেসরকারি জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ৬০টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারকে যুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া বিএমইটির আওতায় চাহিদাভিত্তিক ভাষা প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমানে দেশের ৬০টি টিটিসিতে জাপানি, ইংরেজি, চীনা ও কোরিয়ান ভাষার কোর্স পরিচালিত হচ্ছে এবং ভাষা শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার দেশের সব অঞ্চলে ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন, টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।