জাতীয় ছাত্রশক্তির হবিগঞ্জ জেলা শাখার নেতা আলিফ চৌধুরীর চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার সরকারকে বহন এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইওএইচ) চিকিৎসাধীন আলিফ চৌধুরীকে দেখতে গিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন।
আখতার হোসেন বলেন, হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় হামলায় আলিফ চৌধুরী এক চোখ হারিয়েছেন। অস্ত্রোপচারের পর তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত চোখের দৃষ্টিশক্তি আর ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। অন্য চোখেও ঝাপসা দেখছেন, ফলে সেটিও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, শুধু হবিগঞ্জ নয়, একই দিনে সিলেটেও এনসিপির গাড়িবহরের ওপর হামলা হয়েছে। ওই সময় নেতারা জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের কবর জিয়ারত ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ফিরছিলেন।এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, বুধবার হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। সেখানে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও উপস্থিত নারী সংসদ সদস্যদেরও হেনস্তা ও হামলার মুখে পড়তে হয়েছে। একইভাবে হবিগঞ্জের ঘটনার প্রতিবাদে কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত এনসিপির বিক্ষোভ কর্মসূচিতেও ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশে একটি ভয়াবহ ও বীভৎস রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের আমলে যেভাবে বিরোধী দলের ওপর হামলা-নিপীড়ন চালানো হতো, বর্তমান বিএনপি সরকারও একই পথে হাঁটছে। সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর হামলা, মামলা ও নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, হবিগঞ্জে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে কোনো ধরনের সহিংসতা বা অস্ত্রের মহড়া ছিল না। তারপরও পুলিশ ব্যারিকেড ও ট্রাক দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে নেতাকর্মীদের অগ্রযাত্রা আটকে দেয়। অতীতে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে যেভাবে বিরোধী দলের কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করা হতো, বর্তমান পরিস্থিতিও সেই রকম বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় সরকারের কাছে তিন দফা দাবি তুলে ধরে আখতার হোসেন বলেন, আলিফ চৌধুরীর চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার সরকারকে বহন করতে হবে এবং তাকে ও তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে হামলায় জড়িত ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির চিহ্নিত হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এনসিপিসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক বিরোধী রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম, জুলাই পদযাত্রাসহ সব কর্মসূচি নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।