বিল উত্থাপন নিয়ে বিরোধের জেরে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনেই ওয়াকআউট করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে সংসদে বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর আইনপ্রণয়ন কার্যক্রম শুরুর আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
এ সময় তিনি জুলাই সনদ, সংবিধান সংস্কার পরিষদ এবং সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি নিয়ে কথা বলেন। একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না হওয়ায় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। পরে বৃহস্পতিবার সংসদে উত্থাপনের জন্য নির্ধারিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল উত্থাপনের পরবর্তী কার্যক্রমে অংশ নেবেন না বলে জানান ডা. শফিকুর রহমান। এরপর বিরোধীদলীয় সদস্যরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।
রাত ৮টা ৬ মিনিটে বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ থেকে বেরিয়ে যান। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৬টি অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল আকারে সংসদে উত্থাপন না করায় কার্যকারিতা হারায়। আরও সাতটি অধ্যাদেশ রহিতকরণ বিলের মাধ্যমে বাতিল করা হয়।
কার্যকারিতা হারানো অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে গুম প্রতিরোধ, পুলিশ কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন)-সংক্রান্ত অধ্যাদেশও ছিল। সরকার পরে এগুলো যাচাই-বাছাই করে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়।
গত ৩ আগস্ট গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়া এবং ১০ আগস্ট জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়। তবে খসড়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মানবাধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন মহল উদ্বেগ ও সমালোচনা জানিয়েছে।