জাতীয়

ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে: মির্জা ফখরুল

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩১ জুলাই ২০২৬, ১৪:০৪
PostImage

একটি মহল সচেতনভাবে ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।


স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একটি মহল সচেতনভাবে ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মিলনায়তনে সম্মিলিত সনাতন পরিষদ আয়োজিত ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, “ধর্মের ভিত্তিতে যারা দেশকে বিভক্ত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। আমরা উগ্রবাদ বা মৌলবাদকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দিতে পারি না। আমাদের লক্ষ্য একটি উদার, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।”


তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকারের দেশ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্য স্মরণ করে তিনি বলেন, “তিনি সবসময় বলতেন, দেশের কোনো নাগরিক সংখ্যালঘু নন; সবাই এ দেশের সমান অধিকারসম্পন্ন সন্তান।”

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, “যারা ১৯৭১-কে ভুলিয়ে দিতে চায়, তারা বাংলাদেশে বিশ্বাস করে না। একই সঙ্গে জুলাইয়ের আত্মত্যাগও অস্বীকার করা যায় না। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে শহীদদের অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ করবে।”


বিগত নির্বাচনে বিএনপির রাজনীতিকে সমর্থন দেওয়ার জন্য সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘অত্যন্ত সচেতনভাবে সকল ধর্মের সকল মানুষের অধিকারকে সুরক্ষার জন্য, তাদের সম্পদকে সুরক্ষার জন্য সব রকম ব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করেছি। সরকার সব সময় আপনাদের সঙ্গে থাকছে, যাতে করে আপনারা নিরাপদ বোধ করেন—সেই ব্যবস্থাটা আমরা এখানে করার চেষ্টা করছি।’


সভায় উদ্বোধনী বক্তব্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠনের পেছনে এবার সংখ্যালঘুদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সেই কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে লালন করেন। সরকারের কাছে দেশের সব নাগরিক সমান। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা যেকোনো মতের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে, বিএনপি সরকার সেই অধিকার রক্ষায় আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।’


সভায় সম্মিলিত সনাতন পরিষদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হওয়া হামলা ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করা, হিন্দুধর্মীয় উৎসবগুলোয় যথাযথ সরকারি ছুটি দেওয়া, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে সরকারি জায়গা বরাদ্দ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার পাশাপাশি এই ট্রাস্টকে ফাউন্ডেশন হিসেবে প্রতিষ্ঠাসহ বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়।


আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক হীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।