জাতীয়

দেশে আসেন, ইনশাআল্লাহ রাজপথে দেখা হবে— শেখ হাসিনাকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৫ আগস্ট ২০২৬, ১৬:২৪
PostImage

এত অন্যায়, অবিচার, খুন, গুম, অর্থ পাচার, নির্যাতন ও আয়নাঘরের পরও তাদের কোনো লজ্জাবোধ নেই।


ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, “আওয়ামী লীগের তো কোনো অনুশোচনা নেই। এত অন্যায়, অবিচার, খুন, গুম, অর্থ পাচার, নির্যাতন ও আয়নাঘরের পরও তাদের কোনো লজ্জাবোধ নেই। তারা আবার বলে, ডিসেম্বরে দেশে এসে পদার্পণ করবে। আমরা অপেক্ষা করে আছি, আসেন দেশে। দেশে আসেন, ইনশাআল্লাহ রাজপথে দেখা হবে।”


বুধবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, “২৭ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধ করেছি, এখন ৮২ বছর বয়সে বাংলাদেশের জন্য আরেকটি লড়াই করব। বাংলাদেশে জনগণের শাসন ও গণতন্ত্র চিরস্থায়ী করে যাব আমরা। এই দেশের জন্য রক্ত দিয়েছি, ১৯৭১ সালে যুদ্ধে আহত হয়েছিলাম—এই ধরনের বাংলাদেশ দেখার জন্য তো নয়।”


অনুষ্ঠানে উপস্থিত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার এবং সরকার ভুল করলে জনগণ তা শুধরে দেবে।

অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে তিনি ‍বলেন, আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, এখানে দুজন মন্ত্রী এবং নিচে জুনায়েদ সাকি চমৎকার বক্তব্য দিয়েছেন। এই সরকার আপনাদের নির্বাচিত সরকার। আমরা ভুল করলে আমাদের শুধরে দেবেন। আমরা তো আর আওয়ামী লীগ হতে পারব না, হতেও চাই না।


হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ইনশাআল্লাহ, জুলাইয়ের ইতিহাস গৌরবের ইতিহাস। পৃথিবীতে এমন অনেক দেশ আছে, যাদের নাগরিকেরা উদ্যত সঙ্গিনের সামনে দুহাত প্রসারিত করে দাঁড়াতে পারে না। কোন জাতি এত সাহসী? আমরা সেই জাতি, তাদেরকে নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি।


জুলাইয়ের যোদ্ধাদের উদ্দেশে করে তিনি বলেন, যারা এখানে এসেছেন, মন খারাপ করবেন না। ৭১ সালে যারা জীবন দিয়ে গেছেন, তারাও হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে কিছু পাননি। আপনারাও হয়তো কাঙ্ক্ষিত প্রাপ্তি সব সময় পাবেন না, তবে এই সরকারের কাছে সম্মান আপনারা নিশ্চয়ই পাবেন।


শহীদ পরিবার ও আহতদের উদ্দেশে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের গরিব দেশের যতটুকু সাধ্য আছে, সবকিছু উজাড় করে দেব আপনাদের কল্যাণের জন্য। জুলাইয়ে যারা আত্মাহুতি দিয়েছেন, সেই সব পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং যারা আহত হয়েছেন, চোখের দৃষ্টি ও অঙ্গ হারিয়েছেন—তাদের সুস্থ করে তোলা এই সরকারের সবচেয়ে পবিত্র দায়িত্ব। ইনশাআল্লাহ আমরা সবাই মিলে সেই পবিত্র দায়িত্ব পালন করব।