মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং ফেডারেল রিজার্ভ কর্মকর্তাদের কঠোর আর্থিক নীতির ইঙ্গিতের কারণে বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন হয়েছে। বাংলাদেশ সময় বেলা ২টা ৪৭ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩১৬ দশমিক ৭৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে আগামী ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৫৪ ডলারে নেমেছে।
স্যাক্সো ব্যাংকের কমোডিটি স্ট্র্যাটেজির প্রধান ওলে হ্যানসেন বলেন, স্বর্ণের বাজার আপাতত ৪ হাজার ৩০০ থেকে ৪ হাজার ৪০০ ডলারের মধ্যে লেনদেন হচ্ছে। ফেডের বক্তব্য, মার্কিন সুদের হার, বন্ডের ফলন এবং ডলারের ওপর এর প্রভাবের পাশাপাশি তেলের দামের ওঠানামাও স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখছে।
গত সপ্তাহে সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশ করেছে ফেডারেল রিজার্ভ। বছরের শেষ হওয়ার আগেই আরও একবার সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিতও দিয়েছে সংস্থাটি।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষার হাতিয়ার হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সুদ বা লভ্যাংশ প্রদানকারী সম্পদের দিকে বেশি ঝুঁকতে পারেন। এতে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে এবং এর দামে চাপ তৈরি হয়।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৫ দশমিক ৩৯ ডলারে নেমেছে। প্ল্যাটিনামের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৭৯৪ দশমিক ২৮ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৮৫ দশমিক ৬৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে দেশের বাজারে ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।