আন্তর্জাতিক

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ১০ অক্টোবর দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক

detaillogo
ডেস্ক নিউজ
০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৯
PostImage

কই সঙ্গে আন্দোলনকে নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারের দাবির সঙ্গে যুক্ত করে দেশজুড়ে সমর্থন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।


ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ১০ অক্টোবরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও কয়েকটি ছাত্র সংগঠন। নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।


বুধবার (৭ অক্টোবর) দিল্লিতে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সিজেপি, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ), অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস ফেডারেশন (এআইএসএফ) এবং স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই) নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ঘোষণা দেয়। আম আদমি পার্টির ছাত্র সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব স্টুডেন্টস ফর অল্টারনেটিভ পলিটিক্সও (এএসএপি) এতে অংশ নেয়।


সংগঠনগুলো ৬ অক্টোবর ইন্ডিয়া জোটের সংসদ সদস্যদের নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে মিছিলের প্রতিও সমর্থন জানায়। একই সঙ্গে আন্দোলনকে নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারের দাবির সঙ্গে যুক্ত করে দেশজুড়ে সমর্থন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।


সিজেপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৌরভ দাস দেশজুড়ে মানুষকে দিল্লিতে এসে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ লড়াই সহজ হবে না এবং আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

দাস বলেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করলেও তারা আন্দোলন থেকে সরে যাবেন না। কারণ তাদের মূল দাবি নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার। সিজেপির দাবির মধ্যে রয়েছে সিইসির পদত্যাগ, তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) স্থগিত, আসন্ন নির্বাচন বন্ধ, ২০২৫ সালের জানুয়ারির ভোটার তালিকা পুনর্বহাল এবং স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ।


এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনার নিয়োগসংক্রান্ত ২০২৩ সালের আইন বাতিল করে স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য নিয়োগব্যবস্থা চালুর দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।


এআইএসএর সভাপতি নেহা বোরাও আন্দোলনে ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো বিভাজন নেই বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য, সাধারণ মানুষ, নাগরিক সমাজ, বিরোধী দল ও ছাত্র সংগঠন একদিকে এবং নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি অন্যদিকে অবস্থান করছে।


মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে মিছিল করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করা ইন্ডিয়া জোটের সংসদ সদস্যদেরও সমর্থন জানান বোরাও। তিনি বলেন, জনগণের সমস্যা ও অধিকার নিয়ে রাস্তায় নামা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব।


১০ অক্টোবরের কর্মসূচিকে শক্তিশালী করতে বিরোধী দলগুলোর ছাত্র সংগঠনগুলোও অংশ নেবে বলে জানান তিনি।

এদিকে আন্দোলনের জন্য দিল্লি পুলিশের অনুমতি নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সৌরভ দাস বলেন, বুধবার পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় কর্মসূচির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অঙ্গীকারনামাও দেওয়া হয়েছে। তিনি ‘অনুমতি’ শব্দটি ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, পুলিশকে অবহিত করাই যথেষ্ট। দিল্লি পুলিশ কর্মসূচির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নোটিশ গ্রহণ করেছে বলেও তিনি জানান।


এসএফআই নেতা আদর্শ শাজি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভারতীয় গণতন্ত্রকে দুর্বল করার অভিযোগ তোলেন। তিনি চলমান পরিস্থিতিকে ‘গণতন্ত্র বনাম স্বৈরতন্ত্রের’ লড়াই হিসেবে বর্ণনা করেন।

এর আগে জুলাইয়ে সিজেপির নেতৃত্বে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আন্দোলন হয়েছিল। ওই আন্দোলনের পর তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। এবার ১০ অক্টোবরের কর্মসূচির আগে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে রাজপথে চাপ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে তারা।