যুক্তরাষ্ট্রে হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে দুর্যোগকালীন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি বছরের ৩ অক্টোবর পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যটিতে ১০৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণ ঠেকাতে আরও স্বাস্থ্যকর্মীকে হাম, মাম্পস ও রুবেলার (এমএমআর) টিকা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুল জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। এ সিদ্ধান্ত ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। এর আওতায় নিবন্ধিত নার্সরা সন্দেহভাজন হাম রোগীর পরীক্ষার নির্দেশ দিতে পারবেন। পাশাপাশি ফার্মাসিস্টরা দুই বছর বয়সী শিশুদেরও এমএমআর টিকা দিতে পারবেন।
নিউইয়র্কে শনাক্ত ১০৮ রোগীর মধ্যে সাতজন নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দা। বাকি ১০১ জন অঙ্গরাজ্যের অন্যান্য এলাকার। গত ১৫ জুলাইয়ের পরই ৯২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এসব রোগী অঙ্গরাজ্যের ১৮টি গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করেন, যেখানে টিকাদানের হার তুলনামূলকভাবে কম।
গভর্নর ক্যাথি হকুল বলেন, টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব এমন কোনো রোগে কারও গুরুতর অসুস্থ হওয়া বা মারা যাওয়া উচিত নয়। নিউইয়র্কের পাশের অঙ্গরাজ্য পেনসিলভানিয়াতেও হামের বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব চলছে। সোমবার পর্যন্ত সেখানে ১ হাজার ৪টি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তিন দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যে হামের সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব।
এ ছাড়া টেক্সাস, ইউটা, ওহাইও ও সাউথ ক্যারোলাইনাতেও হাম ছড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছর প্রায় ৩ হাজার ৯০০টি হাম শনাক্ত হয়েছে। ১৯৯১ সালের পর এটিই দেশটিতে হামের সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদানের হার ৯৫ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ায় হাম আবার ছড়িয়ে পড়ছে। ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয়ভাবে হামের সংক্রমণ নির্মূল করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিকাদানের হার কমে যাওয়ায় রোগটি আবার ফিরে এসেছে।
নভেম্বরে প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশনের (পাহো) কর্মকর্তারা বৈঠকে বসবেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো হামমুক্ত দেশের মর্যাদা ধরে রাখতে পারবে কি না, তা নির্ধারণ করা হবে।