যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও তীব্র অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেই ইরানের জ্বালানিমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ পদত্যাগ করেছেন। রোববার (৪ অক্টোবর) তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এরপর রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির (এনআইওসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদ বোভার্ডকে ভারপ্রাপ্ত জ্বালানিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের যোগাযোগ বিভাগের উপপ্রধান মেহদি তাবাতাবাই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পাকনেজাদ পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট তা গ্রহণ করেন। শুরুতে পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো না হলেও পরে রয়টার্সের প্রতিবেদনে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বলা হয়, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন পাকনেজাদ।
নতুন ভারপ্রাপ্ত জ্বালানিমন্ত্রী হামিদ বোভার্ড এর আগে এনআইওসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইরানের তেল ও জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ এই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
মহসেন পাকনেজাদ ২০২৪ সালের আগস্টে ইরানের জ্বালানিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, তেল রপ্তানিতে নানা প্রতিবন্ধকতা ও সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে প্রায় দুই বছর দায়িত্ব পালনের পর তিনি পদ ছাড়লেন।
তার পদত্যাগের সময় ইরানের তেল খাতও নানা চাপে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির তেল রপ্তানি ও রাজস্ব আয়ে প্রভাব পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের তেল বিক্রি ও রপ্তানি নিয়েও আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে।
পদত্যাগের খবর প্রকাশের কিছুক্ষণ আগেও পাকনেজাদ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তেল বিক্রি থেকে ইরানের আয় নিয়ে আশাবাদী বক্তব্য দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক বাধা ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তেল বিক্রির অর্থ ইরানের অর্থনীতিতে প্রবাহিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
এ কারণে তার পদত্যাগের খবর প্রকাশের পর এর কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে পদত্যাগকে ব্যক্তিগত কারণের সঙ্গে যুক্ত করা হলেও, ইরানের জ্বালানি খাতের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপও এই পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে উঠে এসেছে।
ইরানের তেল খাত দেশটির অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, তেল রপ্তানিতে বাধা ও সামরিক সংঘাতের কারণে বড় ধরনের চাপের মুখে রয়েছে। এসব পরিস্থিতিতে তেল থেকে রাজস্ব আদায় ও রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। পাশাপাশি ইরানের তেল রপ্তানি সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পদক্ষেপ দেশটির জ্বালানি খাতে চাপ আরও বাড়িয়েছে।