জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় ব্যাপক হারে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ ও অনুপস্থিতির ঘটনা ঘটেছে। ইসরাইলের নিজস্ব পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর ৪১ মিনিটের বক্তব্যের সময় বাংলাদেশসহ ৭৭টি দেশের আসন ফাঁকা ছিল।
ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, নেতানিয়াহু পোডিয়ামে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। আবার অনেক দেশের প্রতিনিধিরা শুরু থেকেই অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন না। ইসরাইলের প্রকাশিত তালিকায় দেশগুলোর মধ্যে ছিল প্রতিবেশী মিসর, জর্ডান, লেবানন ও সিরিয়া। এছাড়া তুরস্ক, সৌদি আরব, ইরান, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশসহ আরও কয়েকটি দেশের নাম রয়েছে।
তবে ইসরাইলি কর্মকর্তারাই জানিয়েছেন, তালিকাভুক্ত ৭৭টি দেশের অনুপস্থিতির সবগুলোকে সরাসরি ওয়াকআউট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নেতানিয়াহু দিনের প্রথম বক্তা হওয়ায় কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা যথাসময়ে অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত হননি। উদাহরণ হিসেবে মিসর ও জর্ডানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তারা পূর্বপরিকল্পিত ওয়াকআউটে অংশ না নিলেও তাদের আসন ফাঁকা ছিল। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রতিনিধি দল কক্ষ থেকে বেরিয়ে লবিতে দাঁড়িয়ে নেতানিয়াহুর বক্তব্য শোনে বলে ইসরাইলি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন।
অন্যদিকে ২০২০ সালের আব্রাহাম চুক্তির অংশীদার বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিরা নিজেদের আসনে বসেই নেতানিয়াহুর বক্তব্য শোনেন। নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় অধিবেশন কক্ষের বড় অংশ ফাঁকা হয়ে যাওয়ার দৃশ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। ২০২৬ সালের এই অধিবেশনে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সময় কয়েক ডজন দেশের প্রতিনিধি কক্ষ ত্যাগ করেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলও নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সময় কক্ষে ছিল না বলে পৃথক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের জাতিসংঘ অধিবেশনেও বাংলাদেশি প্রতিনিধিরা নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় কক্ষে ছিলেন না—এমন তথ্য বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ও তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাব জানিয়েছিল।
নেতানিয়াহুর ভাষণে অনুপস্থিত বা ওয়াকআউট করা ৭৭টি দেশ:
১. সুরিনাম
২. টুভালু
৩. তুর্কমেনিস্তান
৪. ইয়েমেন
৫. মিসর
৬. পানামা
৭. সেনেগাল
৮. ফিলিস্তিন
৯. সুদান
১০. তিউনিসিয়া
১১. তুরস্ক
১২. ভেনেজুয়েলা
১৩. অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডা
১৪. বেলিজ
১৫. কঙ্গো
১৬. ওমান
১৭. কাতার
১৮. সৌদি আরব
১৯. টোঙ্গা
২০. উজবেকিস্তান
২১. অ্যাঙ্গোলা
২২. বার্বাডোস
২৩. কলম্বিয়া
২৪. কোমোরোস
২৫. ডোমিনিকা
২৬. জিবুতি
২৭. উত্তর মেসিডোনিয়া
২৮. সান মারিনো
২৯. দক্ষিণ আফ্রিকা
৩০. সোমালিয়া
৩১. আলজেরিয়া
৩২. বাংলাদেশ
৩৩. ব্রুনাই দারুসসালাম
৩৪. ব্রাজিল
৩৫. চিলি
৩৬. গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআরসি)
৩৭. লেবানন
৩৮. লাইবেরিয়া
৩৯. ইরিত্রিয়া
৪০. চাদ
৪১. মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র
৪২. লিবিয়া
৪৩. মৌরিতানিয়া
৪৪. জর্ডান
৪৫. নিকারাগুয়া
৪৬. মাদাগাস্কার
৪৭. নাইজার
৪৮. পেরু
৪৯. সেন্ট লুসিয়া
৫০. স্লোভেনিয়া
৫১. আফগানিস্তান
৫২. বাহামা
৫৩. বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা
৫৪. বতসোয়ানা
৫৫. উত্তর কোরিয়া
৫৬. এসওয়াতিনি
৫৭. সিরিয়া
৫৮. উগান্ডা
৫৯. পাকিস্তান
৬০. লেসোথো
৬১. বলিভিয়া
৬২. স্পেন
৬৩. কিউবা
৬৪. নিরক্ষীয় গিনি
৬৫. ইরান
৬৬. কিরগিজস্তান
৬৭. ইরাক
৬৮. মোজাম্বিক
৬৯. মিয়ানমার
৭০. আয়ারল্যান্ড
৭১. মালদ্বীপ
৭২. ইন্দোনেশিয়া
৭৩. কুয়েত
৭৪. নামিবিয়া
৭৫. মালয়েশিয়া
৭৬. গায়ানা
৭৭. কেনিয়া
সূত্র: ইয়েনেট নিউজ