আন্তর্জাতিক

হুথিদের হামলা: সৌদির নিরাপত্তায় জরুরি বৈঠকে সৌদি, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

detaillogo
ডেস্ক নিউজ
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৪৭
PostImage

দেশটির নিরাপত্তা নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানেরা।


বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা বাড়তে থাকায় দেশটির নিরাপত্তা নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানেরা। শুক্রবার রিয়াদের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।

গত জুলাই থেকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। এসব হামলার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি ভেঙে সৌদির বিরুদ্ধে নতুন করে নৌ-অবরোধ এবং বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু করেছে গোষ্ঠীটি।

একই সঙ্গে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে হুথিরা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শুক্রবারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে দেশটির সেনাপ্রধান শুক্রবার সৌদি আরব সফর করছেন। তবে বৈঠকটি একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

এর আগে বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এতে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুবরাজ ফয়সাল বিন ফারহান, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান অংশ নেন। ওই বৈঠকের পরই তিন দেশের সেনাপ্রধানদের যৌথ বৈঠকের ঘোষণা আসে।

সৌদি সরকারি বার্তা সংস্থা এসপিএর প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মক্কা’ যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহযোগিতার উপায় নিয়ে আলোচনা হবে। এ লক্ষ্যে তিন দেশের সেনাপ্রধানদের জরুরি বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

গত মাসে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, জোটের যেকোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে তা অন্য দেশগুলোর ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সদস্য দেশগুলো যৌথভাবে প্রতিরক্ষায় এগিয়ে আসবে।

তবে ন্যাটোর ধাঁচের এই প্রতিরক্ষা চুক্তি সত্ত্বেও পাকিস্তান ও তুরস্ক এখন পর্যন্ত হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেয়নি।

এসপিএ জানিয়েছে, তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সৌদির বেসামরিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে হুথিদের ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ইসলামের পবিত্রতম শহর মক্কায় হামলারও কঠোর সমালোচনা করেছেন তারা। তবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা মক্কায় হামলার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি সালেহ বিন ফাওজান বিন আবদুল্লাহ আল-ফাওজান দেশটির সামরিক বাহিনীকে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি হুথি গোষ্ঠী ও তাদের মদদদাতাদের সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করার জন্য প্রার্থনা করেন।

সূত্র: এএফপ