আন্তর্জাতিক

দিল্লিতে ৬ সপ্তাহ নির্মাণকাজ বন্ধ, বাড়ছে পার্কিং ফি

detaillogo
ডেস্ক নিউজ
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৫৬
PostImage

বায়ুদূষণ মোকাবিলায় একগুচ্ছ কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।


ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ভয়াবহ বায়ুদূষণ মোকাবিলায় একগুচ্ছ কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বর থেকে টানা ছয় সপ্তাহের জন্য দিল্লিতে সব ধরনের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিল্লি প্রশাসন জানায়, শীতকালীন কর্মপরিকল্পনার আওতায় আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্মাণকাজের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। প্রায় তিন কোটি মানুষের এই মেগাসিটি বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত রাজধানীগুলোর তালিকায় নিয়মিতই স্থান পায়। বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্গমন, ভারী যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের উড়ন্ত ধুলা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ফসলের খড় ও অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর ধোঁয়ার কারণে শীতকালে দিল্লির বায়ুদূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করে।


দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী মানজিন্দর সিং সিরসা সাংবাদিকদের বলেন, শীতকালে শহরের বাতাস যাতে অতিমাত্রায় বিপজ্জনক বা বিষাক্ত মাত্রায় না পৌঁছায়, সে জন্য আগাম ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এসব কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


শীতকালে ঠান্ডা বাতাসের ভারী আস্তরণ ক্ষতিকর দূষিত উপাদানগুলোকে মাটির কাছাকাছি আটকে রাখে। ফলে এ সময় দিল্লির বায়ুমানের অবনতি আরও তীব্র হয়। নির্মাণকাজ বন্ধের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করে গণপরিবহন ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন বিধিনিষেধও আরোপ করা হবে।


পরিবেশমন্ত্রী সিরসা জানান, ব্যস্ত সময়ে সড়কে যানবাহনের চাপ ও দূষণ কমাতে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি অফিসের কর্মঘণ্টায় ভিন্নতা নির্ধারণ করা হবে। এ ছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি পার্কিং নিরুৎসাহিত করতে আগামী ১ নভেম্বর থেকে পার্কিং ফি দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


দিল্লির বায়ুদূষণের ভয়াবহতা তুলে ধরে ২০২৪ সালে ‘দ্য ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেলথ’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছিল, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ভারতে প্রায় ৩৮ লাখ মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে পরিবেশ ও বায়ুদূষণের সরাসরি সম্পর্ক ছিল।


শীতকালে দিল্লির বাতাসে ক্যানসার সৃষ্টিকারী সূক্ষ্ম ধূলিকণা পিএম ২.৫-এর ঘনত্ব অনেক সময় প্রতি ঘনমিটারে ৩০০ মাইক্রোগ্রাম ছাড়িয়ে যায়। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত দৈনিক নিরাপদ মাত্রার প্রায় ২০ গুণ বেশি। এর আগে জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত যানবাহন সীমিত করা কিংবা কৃত্রিমভাবে পানি ছিটানোর মতো বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও দিল্লির বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সেগুলোর প্রভাব সীমিত ছিল।


নতুন পরিকল্পনা নিয়ে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন। পাশাপাশি আগামী বছরগুলোতে দিল্লির বাতাসের মানে দৃশ্যমান উন্নতি ঘটবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সূত্র: এএফপি