রাজনীতি

অস্ত্র হাতে মাদকের আস্তানায় ইশরাকের অভিযান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৫৮
PostImage

ঢাকার গেন্ডারিয়ায় মাদকের আস্তানায় আকস্মিক অভিযান চালিয়ে আলোচনায় এসেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।


ঢাকার গেন্ডারিয়ায় মাদকের আস্তানায় আকস্মিক অভিযান চালিয়ে আলোচনায় এসেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। অস্ত্র হাতে নিজেই অভিযানে অংশ নেন তিনি। এ সময় মাদক কারবারে জড়িত থাকার সন্দেহে ছয়জনকে আটক করা হয়। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে আলোচনা ও বিতর্ক।


মঙ্গলবার ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইন-সংলগ্ন একটি বস্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। পরে শনিবার বিকেল ও সন্ধ্যায় প্রতিমন্ত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে অভিযানসংক্রান্ত দুটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়।

প্রথম ভিডিওটি বিকেল সোয়া ৫টায় পোস্ট করা হয়। ১ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ।’


ভিডিওর শুরুতে গাড়ি থেকে পিস্তল হাতে নামতে দেখা যায় প্রতিমন্ত্রীকে। এ সময় মাইকে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘এই দাঁড়াও। এখন বসো। পুলিশ আসবে, তারপর কথা হবে। তোরা শহরটাকে ধ্বংস করতে চাস। এলাকাটাকে ধ্বংস করতে চাস।’

ভিডিওতে ইশরাককে পিস্তল উঁচিয়ে ধরতেও দেখা যায়। তাঁর সহযোগীদের কয়েকজনকে দৌড়ে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আটক করার চেষ্টা করতে দেখা যায়। এ সময় কয়েকজন পালিয়ে গেলেও বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়।

দ্বিতীয় ভিডিওটি সন্ধ্যা ৬টায় প্রকাশ করা হয়। এর ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘লাইভ অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে দিলেন ইশরাক, বিক্রেতারা ধরা।’ ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দিতে দেখা যায়।


ভিডিও দুটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি নিয়ে কেউ প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগের পক্ষে মত দিচ্ছেন, আবার কেউ তাঁর অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়ার ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।


এ বিষয়ে আলজাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তাঁর ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘একদিকে সরকারপ্রধান পজিটিভ ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা করছেন, আরেকদিকে এমন গর্দভের মতো কাজ করে তার সেই চেষ্টা ব্যর্থ করা তো হচ্ছেই, সাথে জনগণের সামনে একটা ঠাট্টা-তামাশার বস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে সরকার দলকে।’

ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।