কিডনিতে পাথর (Kidney Stone) শরীরের অন্যতম যন্ত্রণাদায়ক একটি সমস্যা। প্রস্রাবের ভেতরের খনিজ ও লবণ জমে শক্ত স্ফটিকের মতো তৈরি হলে সেটিকেই কিডনিতে পাথর বলা হয়। সঠিক জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে অনেকাংশে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
কেন কিডনিতে পাথর হয়?
পানিশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন)
শরীরে পানি কম থাকলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়। এতে খনিজ পদার্থ জমে পাথর তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
মানসিক চাপ
অতিরিক্ত চাপের কারণে শরীরে কর্টিসল হরমোন বাড়ে, যা প্রস্রাবে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বাড়াতে পারে। আবার চাপের সময় অনেকেই পানি কম পান করেন বা অস্বাস্থ্যকর খাবার খান।
ভুল খাদ্যাভ্যাস
অতিরিক্ত লবণ, লাল মাংস, চিনি ও অক্সালেটযুক্ত খাবার (যেমন পালং শাক, চকোলেট) বেশি খেলে পাথরের ঝুঁকি বাড়ে।
বংশগত বা রোগজনিত কারণ
কখনো জেনেটিক কারণ বা প্রস্রাবের সংক্রমণ থেকেও কিডনিতে পাথর হতে পারে।
প্রচুর পানি পান করুন
সারাদিনে পর্যাপ্ত পানি পান করলে প্রস্রাব পাতলা থাকে এবং পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমে। শসা, তরমুজের মতো জলীয় ফলও উপকারী।
যোগব্যায়াম, ধ্যান বা গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম নিয়মিত করলে শরীর ও মন সুস্থ থাকে।
সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন
অতিরিক্ত লবণ ও মাংস কমিয়ে দুধ বা দইয়ের মতো ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার পরিমিতভাবে খাওয়া ভালো।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চা শরীরকে সুস্থ রাখে এবং অনেক রোগের ঝুঁকি কমায়।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—
পেট, পিঠ বা কুঁচকিতে তীব্র ব্যথা
প্রস্রাবে রক্ত দেখা যাওয়া
প্রস্রাব করতে কষ্ট হওয়া বা বারবার বেগ আসা
ব্যথার সঙ্গে বমি বমি ভাব
প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই ভালো। একবার কিডনিতে পাথর হলে তা আবার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই সুস্থ জীবনযাপন ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এমআর/