জাতীয়

জ্বালানি সংকটে ঢাকাতেও লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২২
PostImage

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলা এবং শহর-গ্রামের বিদ্যুৎ বৈষম্য কমাতে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলক লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।


বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলা এবং শহর-গ্রামের বিদ্যুৎ বৈষম্য কমাতে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলক লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।


বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। গত বুধবার প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ মেগাওয়াট, ফলে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে সমন্বয় করতে হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, কাগজে-কলমে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশি থাকলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। অতীতের অব্যবস্থাপনা এবং জ্বালানি সরবরাহ সংকটের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।


বর্তমানে বোরো ধান কাটার মৌসুম চলায় কৃষিখাতে সেচের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এই নির্দেশনার অংশ হিসেবে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে ঢাকায় সীমিত আকারে লোডশেডিং চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গ্যাস সংকটের বিষয়েও তিনি বলেন, দেশে দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৬৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি থাকছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রভাব ফেলছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, পর্যাপ্ত অর্থ থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে দ্রুত গ্যাস আমদানি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার পরিকল্পনায় অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ দৃশ্যমান হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

এদিকে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় সরবরাহ আরও ব্যাহত হচ্ছে। তবে সেগুলো দ্রুত চালু হলে আগামী সাত দিনের মধ্যে লোডশেডিং পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জনগণের সাময়িক ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।