জাতীয়

লোডশেডিংয়ের মাত্রা শিগগিরই সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে: প্রতিমন্ত্রী

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫২
PostImage

তীব্র গরমে পুড়ছে সারা দেশ। এর মধ্যে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে লোডশেডিং।


তীব্র গরমে পুড়ছে সারা দেশ। এর মধ্যে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে লোডশেডিং। গত কয়েক দিনে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেড়ে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। শিল্প উৎপাদন, কৃষি কার্যক্রমসহ নানা খাতে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ফলে এখন সাধারণ মানুষের বড় প্রশ্ন—এই লোডশেডিং আর কত দিন চলবে?

লোডশেডিংয়ের মাত্রা শিগগিরই সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে আদানি পাওয়ারের আমদানিকৃত বিদ্যুৎ আবারও পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বাঁশখালির এসএস পাওয়ারের আইপিপি প্ল্যান্ট থেকে আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা বলেন, ২৮ এপ্রিল থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, এতে সংকট কিছুটা কমবে। এছাড়া জ্বালানি সংকটে বন্ধ থাকা আরএনপিপি ইউনিট চালু হলে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে মোট প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিটে সমস্যা হওয়ায় তারা এখন অর্ধেক বিদ্যুৎ দিতে পারছে। একই অবস্থা বাঁশখালির এসএস পাওয়ারের ক্ষেত্রেও। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকলে এবং দেশে জ্বালানি সংকটের মূল কারণগুলো সমাধান না হলে লোডশেডিং পুরোপুরি দূর হবে না।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন বলেন, তেলভিত্তিক প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল করে তাৎক্ষণিকভাবে লোডশেডিং কমানো সম্ভব। তবে এতে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে, যা দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বড় চাপ তৈরি করবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে এই খাতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। এবার তা ৬০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। তাই শুধু তেলভিত্তিক কেন্দ্র চালিয়ে সংকট সমাধান সহজ হবে না।