জাতীয়

নতুন প্রজন্মকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৯ মে ২০২৬, ০৮:৫৯
PostImage

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শুধু জিপিএ-৫ কেন্দ্রিক প্রথাগত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না।


শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শুধু জিপিএ-৫ কেন্দ্রিক প্রথাগত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। নতুন প্রজন্মকে বিশ্বমানের নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

শনিবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত ‘চায়না-বাংলাদেশ এডুকেশন সহযোগিতা ফোরাম-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের উদ্যোগে এবং চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় সমিতির ব্যবস্থাপনায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হলো প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রূপান্তর করা, যাতে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে।’

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের শিল্পখাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এই শূন্যতা দূর করে বিশাল জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে, যাতে তারা সরাসরি কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে।

ড. মিলন বলেন, ‘গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতে আমরা এখনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি। তবে এটি অর্জনে যা যা প্রয়োজন, বর্তমান সরকার সব ধরনের উদ্যোগ নেবে।’

শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শুধু বছর শেষে পরীক্ষা নেওয়া যথেষ্ট নয়। প্রতিদিনের শ্রেণিকক্ষে কার্যকর পাঠদান ও সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।’


চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘চীনের শিক্ষাব্যবস্থা উন্নত এবং তুলনামূলকভাবে ব্যয়ও কম। বর্তমানে প্রায় ১৬ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সেখানে সফলভাবে পড়াশোনা করছে।’

বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ‘তৃতীয় ভাষা’ শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশেষ করে চীনা ভাষা শেখার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার ও উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি আরও জানান, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে পাঠ্যক্রম ও একাডেমিক ক্যালেন্ডারে পরিবর্তন আনছে। একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে যৌথ শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।


এছাড়া বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম বদরুজ্জামান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।

ফোরামে বাংলাদেশ ও চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।