জাতীয়

গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে তা প্রকাশ করা যাবে না: হাইকোর্ট

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ মে ২০২৬, ১১:৪৭
PostImage

ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।


ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে এখন থেকে গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ—ছেলে না মেয়ে—তা প্রকাশ করা যাবে না। সোমবার (১১ মে) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।

রায়ে আদালত বলেন, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করে এবং কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা বাড়ায়। একই সঙ্গে এটি সামাজিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে এবং সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এ ধরনের চর্চা নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের বিরুদ্ধে যায়। পাশাপাশি এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতারও লঙ্ঘন।

হাইকোর্ট আরও বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশের বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং ও জবাবদিহির অভাব ছিল। শুধু গাইডলাইন প্রণয়ন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বরং বাস্তবায়ন, ডিজিটাল নজরদারি ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

রায়ে উল্লেখ করা হয়, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের মাধ্যমে কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে বৈষম্য তৈরি হয়, যা সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ ও নারী অধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতির সঙ্গেও এটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ। আদালত বলেন, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ কঠোর আইনি নিয়ন্ত্রণের আওতায় রয়েছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এছাড়া আদালত এ নির্দেশনাকে “কনটিনিউয়াস ম্যান্ডামাস” হিসেবে ঘোষণা করেছেন। ফলে ভবিষ্যতে এই নির্দেশনার বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি আদালত নিজেই তদারকি করতে পারবেন।