প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে একটি মহল রাজনীতির নামে বিভ্রান্তি ও অরাজকতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, যা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। শনিবার (১৬ মে) বিকেলে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, “রাজনীতির নামে কেউ যদি বিভ্রান্তি বা অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়, তাহলে জনগণ তা বসে দেখে থাকবে না।”
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি দেশের খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি করে। তাদের মূল লক্ষ্য কৃষি, শিল্প, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অনুষ্ঠানটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়-এর উদ্যোগে আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে দেশের আরও ২০টি জেলায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে ১০ জন নারী- হাসিনা খাতুন, সোহাগী আখতার, ফাতেমা খাতুন, আমেনা খাতুন, মোসেদা বেগম, মনোয়ারা বেগম,মাহমুদা খাতুন, রুমা আখতার, নাজমা বেগম এবং তাসলিমার হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর ল্যাবটপের বাটম টিপের সঙ্গে সঙ্গে চাঁদপুরসহ আরও ২০টি জেলার সুবিধাভোগী (১৫ হাজার নারী) প্রত্যেকের কাছে নগদ অর্থ (আড়াই হাজার টাকা) চলে যায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি যেসব কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এর প্রত্যেকটি কর্মসূচি হচ্ছে এই দেশের খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের স্বার্থে। আর এ লক্ষ্যেই আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে এ দেশ থেকে স্বৈরাচার হটিয়েছি। দেশের মানুষ এখন নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে। এখন হচ্ছে আমাদের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের পালা।’
প্রধানমন্ত্রী সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এখন সময় কাজ করার, এখন সময় দেশ গড়ার। তাই আসুন দেশ গড়ার কাজে নেমে পড়ি। এই জনসভায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হই যাতে আমাদের দেশ গড়ার পথে কেউ বাধাগ্রস্ত না করতে পারে। এ জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা এই শর্তে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, ‘করবো কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ এ সময় চাঁদপুরে ইপিজেড স্থাপন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন দাবির পক্ষে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক সমর্থনের কথা জানান।
দেশের মানুষ শান্তি চায়, স্থিতিশীলতা চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু মানুষ একটি মহল বিভিন্ন বিতর্কের সৃষ্টি করছে। আজকে আপনাদেরকে সামনে রেখে আমি পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে আমরা দেশের মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম দেশের মানুষ তার পক্ষে রায় দিয়েছে। কাজেই আমরা দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সেই সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজে হাত দিয়েছি। এসব প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমিকভাবে যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।’
ফ্যামিলি কার্ডের এই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়।