জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্যে সংসদে উত্তেজনা, বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি বিএনপির

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ জুন ২০২৬, ১৬:৪৬
PostImage

হান্নান মাসউদের এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা আব্দুল হান্নান মাসউদের এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে হান্নান মাসউদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জনসভায় বিরোধী দলকে নিয়ে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি দাবি করেন, বিরোধী দলের আন্দোলন ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক ইস্যু নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী এখানে উপস্থিত নেই। কিন্তু বিভিন্ন ভাষণে তিনি এমন কিছু তথ্য দিয়েছেন, যা সঠিক নয়। এ ধরনের বক্তব্যে আমরা হতাশ হই।”

ঋণখেলাপি ও ব্যাংকিং খাতের বিষয়েও সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করেন তিনি। তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে দেওয়া কিছু মন্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

হান্নান মাসউদের বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি ওই বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

এ সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বক্তব্য দিয়ে বলেন, কোন তথ্যটি ভুল তা স্পষ্ট করা হয়নি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করার অধিকার বিরোধী দলের রয়েছে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশে তা স্বাভাবিক।

এরপর বিএনপি মহাসচিব ও সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সংসদ নেতাকে নিয়ে অসত্য বক্তব্য কার্যবিবরণীতে রাখা উচিত নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট অংশ এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান।

এ সময় সংসদ কক্ষে বিএনপি ও জামায়াতের সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে আব্দুল হান্নান মাসউদ পুনরায় বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তাকে বসতে নির্দেশ দেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, “যখন খুশি দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়া সংসদের রীতি নয়। আপনি বসুন। এটি শাহবাগ চত্বর নয়, এটি জাতীয় সংসদ।”

পরবর্তীতে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বক্তব্য দিয়ে বিষয়টি আর না বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংসদের বাইরে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে সংসদে বিতর্কে জড়ালে অপ্রয়োজনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, “কোনটি সত্য, কোনটি অসত্য— এ বিতর্কে গেলে অনেক বিব্রতকর বিষয় সামনে আসতে পারে। আমি চাই না কারও সম্মানের সঙ্গে এমন কিছু যুক্ত হোক। বিষয়টি উপেক্ষা করাই সবার জন্য কল্যাণকর হবে।”

পরবর্তীতে এ বিষয়ে আর কোনো আলোচনা হয়নি এবং সংসদের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে।