জাতীয়

সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস, অনলাইন বেটিংয়ে সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ জুন ২০২৬, ১৫:৩৮
PostImage

জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে।


জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে। নতুন এই আইনের মাধ্যমে ১৮৬৭ সালের **দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট** বাতিল করা হয়েছে। আইনে অনলাইন বেটিং পরিচালনা বা এতে সম্পৃক্ততার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।


মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। বিলের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রায় দেড়শ বছর আগের আইন বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর জুয়ার ধরন মোকাবিলায় কার্যকর নয়। সংবিধানের ১৮(২) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রকে জুয়া প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। সেই আলোকে যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।


নতুন আইনে জুয়া, অনলাইন জুয়া, দূরবর্তী জুয়া, অনলাইন বেটিং, ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ভিপিএন, ভুয়া সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট, মিরর সাইটসহ ২৪টি বিষয়ের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১৪ ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, সাধারণ জুয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। অনলাইন বেটিং পরিচালনা বা এতে সম্পৃক্ততার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড করা হয়েছে।


এ ছাড়া ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আদালত দোষী ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বা স্থায়ীভাবে সংশ্লিষ্ট খেলাধুলা বা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা করতে পারবেন। জুয়ার বিজ্ঞাপন, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা রেফারেল ক্যাম্পেইন পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ইনফ্লুয়েন্সার, শিল্পী ও খেলোয়াড়দের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।


আইনে আরও বলা হয়েছে, ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট বা ক্লাউড অবকাঠামো ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা করলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড হতে পারে। ভুয়া সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট বা বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে জুয়া পরিচালনার ক্ষেত্রেও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। সংঘবদ্ধভাবে বা অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে এসব অপরাধ করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে। নতুন আইনের আওতায় অপরাধে ব্যবহৃত বা অর্জিত অর্থ, ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো সম্পদ, সার্ভার, ডোমেইনসহ সংশ্লিষ্ট সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা আদালতকে দেওয়া হয়েছে। অনলাইন জুয়া ও অনলাইন বেটিং–সংক্রান্ত মামলার বিচার হবে সাইবার ট্রাইব্যুনালে। আইনের আওতায় সব অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপস অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।


এ ছাড়া জনস্বার্থে সরকার বা সরকার-নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ জুয়া ও বেটিং–সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, ডোমেইন, আইপি ঠিকানা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ বা চ্যানেল ব্লক বা নিষিদ্ধ করতে পারবে। সরকারের আশা, নতুন আইন কার্যকর হলে প্রযুক্তিনির্ভর জুয়া, অনলাইন বেটিং, ডিজিটাল আর্থিক প্রতারণা এবং অর্থপাচার প্রতিরোধে কার্যকর আইনি কাঠামো গড়ে উঠবে।

আরও পড়ুন