জাতীয়

জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করে দীর্ঘদিন রাজনীতি করা যাবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ জুলাই ২০২৬, ১৪:৫১
PostImage

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মতভেদ ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকলেও জাতীয় প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করে দীর্ঘদিন রাজনীতি করা যাবে না। যারা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলছেন, তাদের উচিত জনগণের সামনে সেই রূপরেখা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা।

রোববার (১৯ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মতভেদ ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকলেও জাতীয় প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিভেদমূলক বক্তব্য স্বৈরাচারের ফিরে আসার পথ প্রশস্ত করতে পারে। তিনি বলেন, দেশের মানুষকে আর কখনো গণতন্ত্রের জন্য রক্ত দিতে হোক, তা কেউ চায় না। তাই সংসদীয় গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্য আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়ে তিনি বলেন, পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত না করে বিচারকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা সমীচীন হবে না। প্রকৃত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে অতীতে কিছু বিচারক রাজনৈতিক বিবেচনায় দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিতর্কিত নির্বাচন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শুধু আইন প্রণয়ন নয়, কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য সংবিধান সংশোধনও প্রয়োজন। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা প্রায় ১৩৩টি অধ্যাদেশের অধিকাংশই বর্তমান সরকার আইনে পরিণত করেছে। যেগুলোতে আরও সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলো অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে সংশোধন করা হবে।

তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে বিরোধী দলকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও তারা ওয়াকআউট করেছে। জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি টেকসই সাংবিধানিক সংস্কার জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

গণভোট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্দিষ্ট বিষয়ে সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান রয়েছে। তবে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোট সাংবিধানিক গণভোট ছিল না; এটি প্রশাসনিক আদেশের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন আইন আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রণয়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।