জাতীয়

এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা প্রার্থী হতে পারবেন না স্থানীয় সরকার নির্বাচনে

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ জুলাই ২০২৬, ১৪:২০
PostImage

এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করার সুপারিশ করা হয়েছে।


আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ আইন সংশোধনের লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করার সুপারিশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে অনুষ্ঠিত কমিশনের ১২তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।


তিনি জানান, স্থানীয় সরকার আইনের পাঁচটি পৃথক আইন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়ে কমিশন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব সুপারিশ দ্রুত স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে। ইসির সুপারিশ অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী অন্তর্ভুক্ত করারও প্রস্তাব করা হয়েছে।


কমিশন আরও সুপারিশ করেছে, দ্বৈত নাগরিক, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) চার্জশিটভুক্ত ব্যক্তি, ঋণের জামিনদার হিসেবে ঋণ খেলাপি, বিদ্যুৎ, ওয়াসা, ভূমি করসহ সরকারি সেবার বিল খেলাপি এবং লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হোক।

এদিকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ১৫ বছর পর এনআইডি নবায়ন করতে হবে। নবায়নের সময় আবেদনকারীকে নির্ধারিত ফি দিয়ে পরিবারের সদস্যদের তথ্য জমা দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে নাগরিকদের ফ্যামিলি ট্রি (বংশগত তথ্যভান্ডার) তৈরি করা সম্ভব হয়।


এ ছাড়া ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন অনলাইনে করার সুযোগ রাখা হবে এবং এ জন্য নতুন করে সংশোধনী ফি নির্ধারণ করা হবে। জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে এসএসসি, জেএসসি বা পিএসসির সনদের তথ্যের ভিত্তিতে মাঠ পর্যায় থেকেই সংশোধনের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ইসি সচিব জানান, বর্তমানে ১৬ বছরের কম বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও ভবিষ্যতে আরও কম বয়স থেকে এনআইডি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সর্বনিম্ন বয়সসীমা পরে নির্ধারণ করা হবে।

প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়াও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় বায়োমেট্রিক তথ্য সরাসরি আপলোড করা হবে এবং তদন্ত শেষে নির্বাচন কমিশন থেকেই অনুমোদন দেওয়া হবে, ফলে নিবন্ধন প্রক্রিয়ার একটি ধাপ কমে যাবে।


স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, প্রস্তুতি চলমান রয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ ৩১ জুলাই পর্যন্ত চলবে। সরকার সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা জানিয়েছে, সে অনুযায়ী কমিশনও প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে আইন সংশোধনের কারণে নির্বাচনের সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন হবে কি না, সে বিষয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।