রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে তার উত্তরসূরি হিসেবে বিএনপির তিন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম বিভিন্ন মহলে আলোচনায় এসেছে। তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ কিংবা নতুন রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন নিয়ে এখন পর্যন্ত সরকার, বঙ্গভবন বা বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সরকার ও বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত এই রাষ্ট্রপতিকে দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়ে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে বলেও সূত্রগুলোর দাবি। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে সম্ভাব্য নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান—এই তিন নেতার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। দলীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য, এ তিন নেতার মধ্য থেকেই একজনকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
সূত্রগুলো আরও জানায়, নজরুল ইসলাম খানকে দলীয়ভাবে একজন গ্রহণযোগ্য ও অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাষ্ট্রপতি করা না হলে তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অথবা জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবেও বিবেচনা করা হতে পারে বলে দলের অভ্যন্তরে আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়েও কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন সংসদ নির্বাচনের পর দায়িত্ব ছাড়তে আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র পাঠিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। আর ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং একই বছরের ২৪ এপ্রিল শপথ নেন। পদত্যাগ না করলে তার বর্তমান মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বহাল থাকার কথা।