রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে পদত্যাগপত্রটি সংসদ সচিবালয়ে পৌঁছায় বলে বঙ্গভবন সূত্রে জানা গেছে।
পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি নিজের দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। এসব কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব নয়।
চিঠিতে মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে তিনি নিষ্ঠা, সততা এবং সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পদত্যাগপত্রে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন তিনি। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হলে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের আওতায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। পরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শক্রমে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং সেই নির্বাচনের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, তার দৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণেই দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।
শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তিনি আরও জানান, অতীতে তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। সম্প্রতি তার শরীরে Autonomic Neuropathy শনাক্ত হয়েছে, যার কারণে তিনি মাঝে-মধ্যে ক্ষণিকের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখা তার পক্ষে সম্ভব নয় বলেও পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন।
সবশেষে সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন মো. সাহাবুদ্দিন।