রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বহুল আলোচিত-সমালোচিত মো. সাহাবুদ্দিন। শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে শুক্রবার (২৪ জুলাই) তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান। বিকেল ৫টা ১ মিনিটে স্পিকার সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনিই এ দায়িত্ব পালন করবেন।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করা মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলেও প্রচলিত আইন অনুযায়ী অবসর-পরবর্তী বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী থাকবেন।
রাষ্ট্রপতির অবসর ভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি হিসেবে কমপক্ষে ছয় মাস দায়িত্ব পালনের পর পদত্যাগ করলে বা মেয়াদ শেষে দায়িত্ব ছাড়লে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে সর্বশেষ যে মাসিক বেতন পেতেন, তার ৭৫ শতাংশ হারে মাসিক অবসর ভাতা পাবেন।
‘দ্য প্রেসিডেন্টস (রিমিউনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট, ১৯৭৫’ (মে ২০১৬ পর্যন্ত সংশোধিত) অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির বর্তমান মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। সে হিসাবে মো. সাহাবুদ্দিন প্রতি মাসে ৯০ হাজার টাকা অবসর ভাতা পাওয়ার যোগ্য হবেন।
আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে অন্য কোনো সরকারি চাকরি বা পদ থেকে অবসর ভাতা পেয়ে থাকলে তিনি দুটি ভাতার মধ্যে যেকোনো একটি গ্রহণ করতে পারবেন।
রাষ্ট্রপতি অবসর ভাতা গ্রহণরত অবস্থায় মারা গেলে তার বিধবা স্ত্রী বা ক্ষেত্রমতে বিপত্নীক স্বামী সেই অবসর ভাতার দুই-তৃতীয়াংশ হারে আজীবন মাসিক ভাতা পাবেন। অবসর ভাতার পরিবর্তে এককালীন আনুতোষিক গ্রহণের সুযোগও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়ার এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। আনুতোষিকের পরিমাণ নির্ধারিত হবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়কাল অনুযায়ী।
এ ছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি আরও যেসব সুবিধা পাবেন— অবসরে যাওয়ার পর সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে অন্যান্য কিছু সুবিধাও পাবেন মো. সাহাবুদ্দিন। আইনানুযায়ী তিনি একজন ব্যক্তিগত সহকারী ও একজন অ্যাটেনডেন্ট (সাহায্যকারী) পাবেন। দাপ্তরিক ব্যয়ও পাবেন, যার মোট বার্ষিক পরিমাণ সময়ে সময়ে সরকার নির্ধারণ করবে। একজন মন্ত্রীর প্রাপ্য চিকিৎসা সুবিধার সমপরিমাণ চিকিৎসা সুবিধাদি পাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি।
এ ছাড়া সরকারি অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য বিনা মূল্যে সরকারি যানবাহন ব্যবহার, আবাসস্থলে একটি টেলিফোন সংযোগ পাবেন এবং সরকার সময়ে সময়ে নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত এর বিল পরিশোধ থেকে অব্যাহতি দেবে। সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে একটি কূটনৈতিক পাসপোর্টও পাবেন। তখন তিনি দেশের ভেতর ভ্রমণকালে সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্টহাউসে বিনা ভাড়ায় অবস্থানের সুবিধা পাবেন।আইনানুযায়ী চিকিৎসাসুবিধা, কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং দেশের ভেতরে সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্টহাউসে বিনা ভাড়ায় অবস্থানের সুবিধা তার স্ত্রীও পাবেন।
কী কী কারণে একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি অবসর ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন না, তা–ও উল্লেখ আছে আইনে। এগুলো হলো রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব শেষে এমন কোনো দপ্তরে, আসনে, পদে বা মর্যাদায় দায়িত্ব পালন করে নির্ধারিত তহবিল (সংযুক্ত তহবিল) থেকে বেতন বা অন্য কোনো সুবিধা পেলে রাষ্ট্রপতির অবসর ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাওয়া যাবে না। অবসর ভাতার প্রাধিকার পাওয়ার পর আদালতের মাধ্যমে নৈতিক স্খলনজনিত কোনো অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হলেও ওই সব সুবিধা পাওয়া যাবে না। এ ছাড়া অসাংবিধানিক পন্থায় বা অবৈধ উপায়ে রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন বলে উচ্চ আদালত ঘোষণা করলেও সাবেক কোনো রাষ্ট্রপতি ওই সুবিধা পাবেন না।