মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও সদ্য পদত্যাগ করা সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে পৃথক অভিযোগে কয়েকজন অভিনেতা-অভিনেত্রীর বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ আজাদ পার্টি এবং রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম পৃথকভাবে এসব অভিযোগ জমা দেয়। বাংলাদেশ আজাদ পার্টির পক্ষ থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অন্যদিকে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পাশাপাশি কয়েকজন অভিনয়শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ জমা দেয়।
চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে অভিযোগ দাখিলের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ আজাদ পার্টির আহ্বায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. হাসিনুর রহমান। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত হত্যা ও গুমের ঘটনায় সাবেক দুই রাষ্ট্রপতি কখনো প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানাননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় তাঁদের নীরবতা ছিল ‘মৌন সম্মতির’ শামিল।
রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে তদন্ত দাবি করে। সেই সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কয়েকজনের ভূমিকারও তদন্ত দাবি করা হয়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—চিত্র নায়ক ফেরদৌস আহমেদ, মেহের আফরোজ শাওন, রিয়াজ আহমেদ, অরুণা বিশ্বাস, শমী কায়সার, রোকেয়া প্রাচী, মাহিয়া মাহি, নিপুন আক্তার, তানভীন সুইটি, হৃদি হক, জ্যোতিকা জ্যোতি, সাজু খাদেম, সোহানা সাবা, পিয়া জান্নাতুল, শামীমা তুষ্টি, হিরো আলম, আশনা হাবীব ভাবনা, সাইমন সাদিক, সুজাতা আজিম, জায়েদ খান, আজিজুল হাকিম, চন্দন রেজা, আসাদুজ্জামান নূর, মারিয়া কিসপট্টা, শান্তা ফারজানা, মোবিন মেহেদী, সোমা ইসলাম ও আনিস আলমগীর।
রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম তাদের অভিযোগ আইন অনুযায়ী যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে শহীদ ও আহতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা দাবি জানায়। অভিযোগে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস বলেছেন, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে শাহবাগে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে গত বছরের ১৮ জানুয়ারি রাতে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে তাঁকে গুম করা হয়। পরদিন ১৯ জানুয়ারি বাংলামোটর এলাকায় তাঁকে ফেলে রেখে যায়।
আল নূর মোহাম্মদ রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘একান্ত সহযোগী’ হিসেবেও সাহাবুদ্দিনকে উল্লেখ করেছেন আল নূর মোহাম্মদ। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ, অমানবিক নির্যাতন, খুন, গুমের হুকুমদাতা হিসেবে সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা তদন্ত করে বিচারের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনো অভিযোগ জমা হলে তাঁরা সেটি তদন্ত সংস্থার কাছে পাঠিয়ে দেন।’