জাতীয়

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের গ্রেপ্তারের বিষয়ে যা জানালেন আইনমন্ত্রী

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ জুলাই ২০২৬, ১৫:১১
PostImage

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে: আইনমন্ত্রী


সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান এবং ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সরকার যাচাই-বাছাই করছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নবীন আইনজীবীদের বরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, জনদাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অতীতের অভিযোগগুলো তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


তিনি বলেন, ‘সরকার চায় না অন্যায্যভাবে কেউ কষ্ট পাক। তবে সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ’সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এমন দাবি আসতেই পারে। তবে এ ধরনের দাবির যৌক্তিকতা আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করা হবে।


এ ছাড়া পদত্যাগের পর তার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার ওপর কোনও নিষেধাজ্ঞা আছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয় এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গোপনীয় তথ্যগুলো সময়মতো জানানো হবে।’

অনুষ্ঠানে বিগত সরকারের আমলের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, গত ১৬ বছরে দেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা বর্তমানের দুই-তিনটি জাতীয় বাজেটের সমান। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, খুলনায় পৌনে চার কিলোমিটার সড়কের জন্য ২৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং পিরোজপুরে ‘মহারাজ’ নামক এক ব্যক্তির প্রভাবে এলজিইডিতে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার কাজ কেবল কাগজে-কলমে দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ লুটপাট করা হয়েছে।


নবীন ১ হাজার ৫৪ জন আইনজীবীর উদ্দেশে তিনি পেশাগত সততা বজায় রাখা, সেবার মানসিকতা তৈরি এবং নিজস্ব দলের কেউ দুর্নীতিতে জড়ালেও তার প্রতিবাদের আহ্বান জানান। নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইনজীবী হওয়ার কোনও শর্টকাট পথ নেই, প্রতিদিন শিখতে হয়।’ তিনি তাদের টাকার পেছনে না ছুটে মানুষের সেবা করার এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় মেধা ও শ্রম দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যদি নিজের দলের কেউও দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়, তবে আইনজীবীদের উচিত হবে তার প্রতিবাদ করা। এটি করতে হবে।’