জাতীয়

বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে আর কখনো ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ হবে না দেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৫ আগস্ট ২০২৬, ১৬:১৩
PostImage

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল বাংলাদেশ যেন আর কখনো কোনো দেশের ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ বা নির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত না হয়।


বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল বাংলাদেশ যেন আর কখনো কোনো দেশের ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ বা নির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত না হয়। সরকার সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শুরু থেকেই আমাদের সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি ছিল বাংলাদেশ ফার্স্ট। আমরা আর কখনো বাংলাদেশকে ক্লায়েন্ট স্টেটে পরিণত হতে দেব না।’ তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাফল্য দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জাতীয় স্বার্থভিত্তিক স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের ক্ষেত্রে নতুন দায়িত্ব সৃষ্টি করেছে। সেই দায়িত্ব নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করতে হবে।


ড. খলিলুর রহমান জানান, সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে বলেছেন, একসময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে হারিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছিল, তবে এখন দেশটি নতুন শক্তি নিয়ে ফিরে এসেছে। তিনি এটিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।


২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের সংগ্রামে তাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন স্মরণ করবে। একই সঙ্গে আন্দোলনে আহতদের প্রতিও গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেন তিনি।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায় ছিল। সেই সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলের নজরে আনতে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।


তিনি দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সরকারের তিনটি প্রধান অগ্রাধিকার ছিল—তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জাতীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা। নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সরকার এই লক্ষ্যগুলো অর্জনে সফল হয়েছে।


ড. খলিলুর রহমান বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনও জাতীয় নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। এর মাধ্যমে জনগণের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পথ সুগম হয়েছে।


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্ব অর্জনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রথমে এটি অসম্ভব মনে হলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাংলাদেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেয় এবং দেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরলস প্রচেষ্টায় সেই সাফল্য অর্জিত হয়।


তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ক্যাডারের সক্ষমতা ও পেশাদারিত্বের প্রমাণ এই অর্জন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের প্রথম বড় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।’ অনুষ্ঠানের শেষে জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি যথাযথ সম্মান জানাতে দেশপ্রেম, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের সাহসী তরুণরা দেশকে নিপীড়নের হাত থেকে মুক্ত করেছে। এখন ভালোবাসা, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা দিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব আমাদের সবার।’