খেলা

সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে ২৫৬ কোটি টাকা পাচারের প্রমাণ পেয়েছে দুদক

detaillogo
ডেস্ক নিউজ
০৬ আগস্ট ২০২৬, ১৪:২৯
PostImage

এ মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে শিগগিরই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।


শেয়ারবাজারে কারসাজি ও জালিয়াতির মাধ্যমে ২৫৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলার তদন্ত শেষ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে শিগগিরই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।


বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে কারসাজির মাধ্যমে ২৫৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলার তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে দ্রুতই চার্জশিট দাখিল করা হবে।


এর আগে, ২০২৫ সালের ১৭ জুন দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন— সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক আবুল খায়ের, তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, জাভেদ এ. মতিন, জাহেদ কামাল, হুমায়ূন কবির এবং তানভীর নিজাম।


দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তদন্তে শেয়ারবাজারে অনিয়ম ও আর্থিক জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।

সূত্র জানিয়েছে, পতিত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার দোসর হিসেবে চিহ্নিত ও বিতর্কিত সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গেও জড়িত। অতীতে তার বিরুদ্ধে ক্রিকেট নিয়ে কেলেঙ্কারির দায়ে আইসিসির নিষেধাজ্ঞা ছিলো। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আদাবর থানায় একটি হত্যা মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের পর তিনিও পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।


আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হিসেবে নানান অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকারও বিষয়ে দুদকে তার বিরুদ্ধে আরো একাধিক অভিযোগের তদন্ত চলছে। তার বিরুদ্ধে অবৈধ জুয়া ব্যবসা, গোল্ড স্মাগলিং, ব্যবসায়ীদের অর্থ আত্মসাৎ ও নির্বাচন কমিশনে সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগের অনুসন্ধানও চলছে। আর্থিক অনিয়ম ও বাজার কারসাজির অভিযোগে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তার ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে। জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপন করার কারণে ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তাকে সব ধরনের ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করেছিল। অতীতে মেজাজ হারিয়ে স্ট্যাম্প ভাঙা, আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কে জড়ানো এবং দর্শকদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।