নারায়ণগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মো. ওয়াজেদ আলম সীমান্ত (২০) হত্যা মামলায় তিন আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (১৭ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ শামীম আজাদ এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—পেশাদার ছিনতাইকারী অনিক, আকাশ ও চান্দি বাবু।
নিহত ওয়াজেদ আলম সীমান্ত দেওভোগের শুক্কুরকারি মসজিদ গলির মো. আলম পারভেজের ছেলে। তিনি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (এআইইউবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে নগরীর দেওভোগের মিন্নত আলী শাহ সাহেবের মাজারের সামনে সীমান্তকে ছুরিকাঘাত করে ছিনতাইকারীরা। এ সময় তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও ১ হাজার ৮০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আলম পারভেজ বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে নগরীর চিহ্নিত অভিযুক্ত তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা আদালতে ছিনতাই ও ছুরিকাঘাতের কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক হত্যাকাণ্ডের ২০ মাসের মাথায় তিন আসামির উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ নাজিবুল্লাহ বিপু জানান, এ মামলার মোট ২৭ জন সাক্ষী ছিলেন। এর মধ্যে ২৪ জন সাক্ষী দিয়েছেন। তাদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে জেলা জজ এ রায় ঘোষণা করেন।
সীমান্তের বাবা আলম পারভেজ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আমার মতো আর কারো সন্তান যেন ছিনতাইকারীর হাতে প্রাণ না হারায়, কোনো মায়ের বুক যেন আর খালি না হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের উচ্চ আদালতের মাধ্যমে রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান তিনি।