জাতীয়

অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমাবে সরকার, প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় অব্যাহত থাকবে: প্রধানমন্ত্রী

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩:৪৬
PostImage

‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।


অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার। তবে প্রয়োজনীয় খাতে অবশ্যই ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।


তারেক রহমান বলেন, যারা সৎ ও দক্ষ, তাদের আরও বেশি কাজ করার সুযোগ দিতে চায় সরকার। প্রত্যেকে যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলেই দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তিনি বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য। এনবিআরের কার্যক্রমের সাফল্যের ওপর সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সফলতা অনেকাংশে নির্ভরশীল।


এনবিআরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্য দিয়ে সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে—এ বিষয়ে কর্মকর্তারা অন্য যেকোনো শ্রেণি-পেশার মানুষের চেয়ে বেশি অবগত।

দীর্ঘদিনের শাসন-শোষণের প্রভাব থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডও মুক্ত থাকতে পারেনি বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, নীতি ও নিয়ম উপেক্ষা করে ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থে পৃষ্ঠপোষকতা, কারও প্রতি বিরূপ মনোভাব এবং রাজস্ব আহরণে স্বেচ্ছাচারিতা এনবিআরকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এতে প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন দেশের জনগণ এনবিআরকে একটি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চায়। দক্ষ ও টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জনআস্থা অর্জন করতে হবে। করদাতাদের প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব এনবিআরের কর্মকর্তাদেরই নিতে হবে।


তারেক রহমান বলেন, সরকার শুধু বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর অতিরিক্ত ঋণের বোঝা চাপাতে চায় না। তাই অভ্যন্তরীণ রাজস্বের ক্ষেত্র ও উৎস বাড়াতে হবে।

এ জন্য সরকার গণমুখী উৎপাদন নীতি গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়ন বাড়বে। মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং জনগণ আরও উন্নত সরকারি সেবা পাবে। এসব ক্ষেত্রে এনবিআরের দক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।


পরিবর্তিত অর্থনীতির সঙ্গে দক্ষতা বাড়াতে হবে

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। নতুন প্রযুক্তির বিকাশ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত ধরন এবং নতুন ব্যবসায়িক মডেলের কারণে নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কর ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন এসেছে।


পরিবর্তিত বিশ্বের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজস্ব কর্মকর্তাদের বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জন এখন সময়ের দাবি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।