জাতীয়

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি রুমিন ফারহানাসহ ৬ এমপি

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ আগস্ট ২০২৬, ১৩:৫৩
PostImage

ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাসহ ছয়জন।


দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাসহ ছয়জন। ভোট না দেওয়া ছয় সংসদ সদস্যের মধ্যে বিএনপির মির্জা আব্বাস ও মোস্তফা কামাল পাশা বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিএনপির ওসমান ফারুক এবং খেলাফত মজলিসের আবুল হাসানও ভোট দিতে সংসদে আসেননি। এছাড়া জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকেও ভোটকেন্দ্রে দেখা যায়নি।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোটার ছিলেন। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। ছয়জন ভোটদানে বিরত থাকেন। ভোট না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে রুমিন ফারহানা জানান, তার কাছে এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অর্থহীন ও প্রহসনের মতো মনে হয়েছে। কারণ নির্বাচনে ফলাফল নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা ছিল না।


তিনি বলেন, ‘ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটিকে প্রকৃত নির্বাচন বলা যায় না। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল কী হবে, তা আগে থেকেই স্পষ্ট ছিল। এটি নির্বাচন নয়, বরং মনোনয়নের মতো একটি প্রক্রিয়া।’

রুমিন ফারহানার দ্বিতীয় আপত্তি ছিল রাষ্ট্রপতি পদে একজন অরাজনৈতিক ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে মনোনীত করতে না পারা নিয়ে। তিনি বলেন, ‘বড় ধরনের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষের আত্মত্যাগ ও প্রত্যাশার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত ছিল সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে আনা।’


তৃতীয় কারণ হিসেবে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে বিএনপির পক্ষ থেকে দলীয় প্রার্থীর বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ হারানোর বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সংস্কারের কথা বললেও এই নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি।’


সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে।

এদিকে ভোট চলাকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান এক বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন, দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন। জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে যে ঐকমত্য হয়েছিল, তা থেকে সরে আসার অভিযোগ তুলে দলটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে পরে জানা যায়, ইসলামী আন্দোলনের ওই সংসদ সদস্য ভোট দিয়েছেন।