রাজনীতি

বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কথা বলায় আখতারুজ্জামানের মামলা প্রত্যাহারের দাবি গোলাম পরওয়ারের

detaillogo
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৩
PostImage

বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার জন্য দুজনকে বরখাস্ত করার মধ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষই স্বীকার করেছে সেখানে অব্যবস্থাপনা ছিল।


জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার জন্য দুজনকে বরখাস্ত করার মধ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষই স্বীকার করেছে সেখানে অব্যবস্থাপনা ছিল। সেই অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কথা বলে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান যথার্থ কাজই করেছেন। অথচ তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। এই মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে রিমান্ডের আদেশ বাতিল করে তাকে মুক্তি দিতে হবে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

গোলাম পরওয়ার বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ১ অক্টোবরের ঘটনায় সারা দেশের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্যকে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে তোলা এবং রিমান্ডে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, বিমানবন্দরে প্রায় ৩৪ জন সংসদ সদস্যসহ অনেক নেতা লাগেজ, জমজমের পানি ও ট্রলি না পেয়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন। ভিআইপি যাত্রী হিসেবে সেখানে উত্তেজিত হয়ে কর্তৃপক্ষকে শক্ত কথা বলা নাগরিক অধিকার। আখতারুজ্জামান সেই অধিকারই প্রয়োগ করেছেন।

মামলার এজাহারে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেওয়া, আঘাত ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, ওই সময় সংসদ সদস্য কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেছেন, আখতারুজ্জামান কারও গায়ে হাত তোলেননি বা কাউকে নাজেহাল করেননি। আখতারুজ্জামান যা বলেছেন, তা ভিডিওতেও দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

মামলা প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার জন্য দুজনকে বরখাস্ত করার মধ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষই স্বীকার করেছে যে সেখানে অব্যবস্থাপনা ছিল। সেই অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কথা বলায় আখতারুজ্জামান যথার্থ কাজই করেছেন। অথচ তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। এই মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে রিমান্ডের আদেশ বাতিল করে তাকে মুক্তি দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আখতারুজ্জামান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি সাহসী মানুষের মতো নিজের বাসা থেকে স্বেচ্ছায় পুলিশের সঙ্গে গেছেন। তাকে গ্রেফতারের কারণ শুধু বিমানবন্দরের ঘটনা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আখতারুজ্জামানকে হেলমেট পরানোর সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, কারাবিধি অনুযায়ী দুর্ধর্ষ অপরাধী, খুনি, ডাকাত কিংবা পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এমন আসামিদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আখতারুজ্জামান কি দুর্ধর্ষ ডাকাত বা খুনি? তিনি তো স্বেচ্ছায় পুলিশের সঙ্গে গেছেন। তাহলে কেন তাকে হেলমেট পরানো হলো?

তিনি বলেন, দুই-তিন দিনের ঘটনায় যারা অপরাধী, তাদের গ্রেফতার করা হয়নি। অথচ একজন নিরপরাধ মানুষকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও দলের কিছু মন্ত্রী-এমপি জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের বিরুদ্ধে সুর মিলিয়ে কথা বলছেন। জামায়াত-শিবিরকে ‘গুপ্ত’ বলা হচ্ছে। একজন দায়িত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তির মুখে এ ধরনের কথা মানায় কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতকে গুপ্ত ও স্বাধীনতাবিরোধী বলা হলে এসব বক্তব্য আপনাদের বিরুদ্ধেই যাবে। কারণ ২০ থেকে ২২ বছরের রাজনৈতিক আন্দোলনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে রাজপথে ছিল। চারদলীয় জোটে তারা একসঙ্গে আন্দোলন করেছে। তখন জামায়াতকে গুপ্ত বলা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব ও বর্তমান রাষ্ট্রপতিও সংসদে মাওলানা নিজামীর প্রশংসা করে বক্তব্য দিয়েছেন। তাহলে এখন কেন ভিন্ন কথা বলা হচ্ছে?
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতকে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাবিরোধী, রাজাকার ও গণহত্যাকারী হিসেবে আখ্যায়িত করলে এর রাজনৈতিক দায় আপনাদেরই নিতে হবে। ২০২৪ সালের আগে আপনারা এসব কথা বলেননি। আওয়ামী লীগ চলে যাওয়ার পর এখন আওয়ামী লীগের ভাষায় জামায়াতকে আক্রমণ করা হচ্ছে।

তিনি প্রশ্ন করেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপনাদের কথার এত মিল কেন? দিল্লির সঙ্গে গোপনে কোনো যোগাযোগ তৈরি হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও মানুষের মনে তৈরি হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীকে এক করে দেখা যাবে না। জামায়াতে ইসলামী দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য রাজনীতি করছে।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, জাতিকে বিভক্ত করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করলে জনগণ তার জবাব দেবে। বিরোধী দল ও সরকারি দল মিলে দেশের স্বার্থে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সরকার ভালো কাজ করলে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করবে, আর দেশবিরোধী কাজ হলে তার বিরোধিতা করবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী অপরিণত রাজনৈতিক দল নয়। দেশের স্বার্থে তারা রাজনীতি করছে। সরকারের সঙ্গে ফ্যাসিবাদী রাজনীতি বা দিল্লির স্বার্থের কোনো মিল থাকলে নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তার বিরোধিতা করা হবে।
আরও পড়ুন