লাইলাতুল কদর বা শবে কদর এমন এক মহিমান্বিত রাত, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। পবিত্র কুরআনুল কারিম এই রাতেই নাজিল হয়েছিল। কুরআনের সুরা দুখান ও সুরা কদর–এ এ রাতের ফজিলত উল্লেখ করা হয়েছে।
কদরের রাত কোনটি
হাদিস অনুযায়ী, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন— রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে কদরের রাত অনুসন্ধান করতে। তাই সাধারণত ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ রমজানের রাতগুলোতে বেশি ইবাদত করা হয়।
শবে কদরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দোয়া
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)–কে জিজ্ঞেস করেছিলেন— যদি আমি কদরের রাত পেয়ে যাই, তাহলে কী দোয়া পড়ব?
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুওউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।
অর্থ:
হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসো। তাই আমাকে ক্ষমা করে দাও।
(হাদিস: জামে তিরমিজি ৩৫১৩)
আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দোয়া
১.
رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ
উচ্চারণ: রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আন্তা খাইরুর রাহিমিন।
অর্থ: হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন এবং রহম করুন; আপনিই শ্রেষ্ঠ দয়ালু।
(সুরা মুমিনুন: ১১৮)
২.
رَبَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا
উচ্চারণ: রাব্বানা আমান্না ফাগফিরলানা ওয়ারহামনা।
অর্থ: হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা ঈমান এনেছি, আমাদের ক্ষমা করুন ও রহম করুন।
৩.
رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي
উচ্চারণ: রাব্বি ইন্নি জালামতু নাফসি ফাগফিরলি।
অর্থ: হে আমার রব! আমি নিজের ওপর জুলুম করেছি, আমাকে ক্ষমা করুন।
(সুরা কাসাস: ১৬)
৪.
رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ
উচ্চারণ: রাব্বানাগফিরলি ওয়া লিওয়ালিদাইয়্যা ওয়া লিলমুমিনিন।
অর্থ: হে আমাদের প্রভু! আমাকে, আমার বাবা–মাকে এবং সব মুমিনকে ক্ষমা করুন।
(সুরা ইবরাহিম: ৪১)
কেন এই রাতে দোয়া গুরুত্বপূর্ণ
ইসলামে এই রাতকে ক্ষমা, রহমত ও মুক্তির রাত বলা হয়। তাই বেশি বেশি নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, তওবা ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা উত্তম।
এই রাতের ইবাদত মানুষের গোনাহ মাফ এবং জীবনের কল্যাণের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে ইসলামি শিক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এমআর/