বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মুখোমুখি হচ্ছে নরওয়ে ও ব্রাজিল। এটি বিশ্বকাপে দুই দলের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। ষষ্ঠ শিরোপার লক্ষ্যে এগিয়ে চলা ব্রাজিলের সামনে এবার বড় চ্যালেঞ্জ—ইতিহাস। কারণ, নরওয়ের বিপক্ষে এখনো একটি ম্যাচও জিততে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এ পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। এর মধ্যে দুটি ম্যাচে জয় পেয়েছে নরওয়ে, আর বাকি দুটি ড্র হয়েছে। ব্রাজিলের জয়ের খাতা এখনো শূন্য।
বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র আগের সাক্ষাৎ হয়েছিল ১৯৯৮ আসরের গ্রুপ পর্বে। সেই ম্যাচে ২-১ গোলে জয় পেয়েছিল নরওয়ে। ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র গোল করেছিলেন বেবেতো। নরওয়ের হয়ে গোল করেন তোরে আন্দ্রে ফ্লো ও কেতিল রেকদাল। বিশ্বকাপের বাইরে প্রীতি ম্যাচেও ব্রাজিলকে হারিয়েছে নরওয়ে। ১৯৮৮ সালে দুই দল ১-১ গোলে ড্র করে। এরপর ১৯৯৭ সালের ৩০ মে ৪-২ গোলে জয় পায় নরওয়ে। সর্বশেষ ২০০৬ সালের আগস্টে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিও ১-১ গোলে ড্র হয়।
চার ম্যাচে মোট ১৩টি গোল হয়েছে। এর মধ্যে ব্রাজিল করেছে ৫টি, আর নরওয়ে ৮টি। অর্থাৎ মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানেও এগিয়ে রয়েছে ইউরোপের দলটি। পুরোনো সেই সাফল্যের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাসী নরওয়ের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। সম্প্রতি তিনি বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমরা নরওয়ে-ব্রাজিল ম্যাচের গল্প শুনে বড় হয়েছি। এবার আমাদের সামনে সেই সুযোগ এসেছে। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না। ফুটবলে যেকোনো কিছুই সম্ভব।”
তবে দলের আরেক তারকা আর্লিং হালান্ড তুলনামূলক সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি ব্রাজিলকে সমীহ জানিয়ে বলেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে জয় পাওয়া সহজ হবে না এবং নরওয়ের সম্ভাবনা খুবই সীমিত। ইতিহাস নরওয়ের পক্ষে থাকলেও বর্তমান ফর্মে আত্মবিশ্বাসী ব্রাজিল। ফলে বিশ্বকাপের এই নকআউট লড়াইয়ে ইতিহাস বদলাবে, নাকি নরওয়ে ধরে রাখবে নিজেদের আধিপত্য—সেই উত্তর মিলবে মাঠের খেলায়।