খেলা

বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়, জাতীয় দলকে বিদায় বললেন নেইমার

detaillogo
ডেস্ক নিউজ
০৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৫
PostImage

বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।


বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ম্যাচ শেষে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার। আবেগঘন মুহূর্তে তিনি জানান, সেলেসাওদের জার্সিতে তার পথচলা এখানেই শেষ।


ম্যাচ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়েন নেইমার। সতীর্থরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও ব্রাজিলের জার্সিতে বিদায়ের বেদনা স্পষ্ট ছিল তার মুখে। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি, অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন সব শেষ। এখানেই শুরু করেছিলাম, এখানেই শেষ করলাম।’ নেইমারের বিদায়কে আরও আবেগঘন করে তুলেছে ভেন্যুটি। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই ব্রাজিলের হয়ে অভিষেক হয়েছিল তার। সেই ম্যাচেই গোল করেছিলেন তরুণ নেইমার। ১৬ বছর পর একই মাঠে নরওয়ের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করলেও সেটিই হয়ে থাকল জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ গোল।


শেষ ষোলোর ম্যাচে নেইমার শুরুর একাদশে ছিলেন না। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। তবে শেষ দিকে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় নরওয়ে। ৭৮ ও ৮৯ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন হালান্ড। যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান কমালেও ব্রাজিলকে পরাজয় থেকে রক্ষা করতে পারেননি নেইমার। এই হারের মধ্য দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর গণ্ডিতেই থেমে গেল ব্রাজিলের যাত্রা। ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বিদায় নিল সেলেসাওরা। পাশাপাশি ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে জয়হীন থাকার ধারাও অব্যাহত থাকল।


ব্যক্তিগতভাবে নেইমারের বিশ্বকাপ-স্বপ্নও অপূর্ণই থেকে গেল। ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬—চারটি বিশ্বকাপ খেলেও শিরোপার দেখা পাননি তিনি। থিয়াগো সিলভার পর দ্বিতীয় ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হিসেবে চারটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েও ট্রফিবিহীন বিদায় নিতে হলো তাকে। তবে জাতীয় দলের হয়ে রেকর্ডের পাতায় উজ্জ্বল থাকবেন নেইমার। নরওয়ের বিপক্ষে গোল করে তিনি কিংবদন্তি পেলের পাশে জায়গা করে নিয়েছেন। ব্রাজিলের হয়ে চারটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করা ফুটবলার এখন কেবল পেলে ও নেইমার।


জাতীয় দলের হয়ে ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল ও ৫৮ অ্যাসিস্ট নিয়ে ক্যারিয়ার শেষ করলেন নেইমার। সিনিয়র দলের হয়ে তার একমাত্র বড় শিরোপা ২০১৩ সালের কনফেডারেশনস কাপ। এছাড়া ২০১৬ সালে ব্রাজিলকে অলিম্পিক স্বর্ণ জেতাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। ড্রিবল, গোল, সৃজনশীলতা, প্রত্যাবর্তন এবং অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্তে ব্রাজিল ফুটবলের একটি যুগের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন নেইমার। তবে যে বিশ্বকাপ শিরোপার জন্য তাকে সবচেয়ে বেশি স্মরণ করা হবে, সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল।