আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য হলো নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে নারীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করা।
রোববার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে শনিবার (৭ মার্চ) দেওয়া বাণীতে তিনি এ কথা জানান।
বাণীর শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এ উপলক্ষে তিনি বিশ্বের সব নারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন নারীর অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা নারী। তাদের রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনীতির মূলধারার বাইরে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না হলে সামগ্রিক উন্নয়নও সম্ভব নয়।
বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে নারী বিষয়ক দপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং ১৯৭৮ সালে গঠন করা হয় মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়। পরে খালেদা জিয়ার শাসনামলে ১৯৯৪ সালে এটি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে রূপান্তরিত হয়।
তারেক রহমান বলেন, খালেদা জিয়া মেয়েদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন, যা নারীর ক্ষমতায়নে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে।
তিনি আরও জানান, সরকার উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে ফ্রি স্কুল ইউনিফর্ম, ডিজিটাল লার্নিং সুবিধা ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিচ্ছে।
নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাইবার বুলিং ও অনলাইনে নারীর বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
বাণীর শেষে তিনি বলেন, সমাজে সমতা হোক অঙ্গীকার, মর্যাদা হোক বাস্তবতা এবং ক্ষমতায়ন হোক উন্নয়নের ভিত্তি। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সফলতাও কামনা করেন তিনি।
এমআর/