পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় নিজের বাল্যবিয়ে রুখতে থানায় আশ্রয় নিয়েছে এক স্কুলশিক্ষার্থী। পরে বিয়ে না দেওয়ার মুচলেকা নিয়ে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে উপজেলার চাড়াখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী স্থানীয় সরকারি সেতারা স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী।
জানা গেছে, শুক্রবার ওই শিক্ষার্থীর বাবা প্রবাসী এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ের আয়োজন করেন। কিন্তু শিক্ষার্থীটি এতে রাজি না হয়ে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে ইন্দুরকানী থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন।
পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে বিয়ে না দেওয়ার মুচলেকা নিয়ে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে আবারও বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হলে শনিবার সকালে তিনি পুনরায় থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন।
থানায় বসে ওই শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের বলেন, তিনি এসএসসি পরীক্ষা দিতে চান এবং লেখাপড়া চালিয়ে যেতে চান। জোরপূর্বক বিয়ে ঠেকাতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। সহপাঠীরা জানান, তিনি একজন মেধাবী শিক্ষার্থী এবং নিয়মিত পড়াশোনায় মনোযোগী। তারা চান, তার পড়াশোনা অব্যাহত থাকুক এবং তিনি ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠিত হোন।
অভিযুক্ত বাবা জানান, ভালো পাত্র পাওয়ায় তিনি বিয়ের আয়োজন করেছিলেন। তবে মেয়ে রাজি না হওয়ায় এবং সবার সিদ্ধান্ত মেনে তিনি এখন বিয়ে বন্ধ রেখেছেন এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে মেয়েকে বিয়ে দেবেন না। এ বিষয়ে ইন্দুরকানী থানার এসআই সাইদুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীটি দুইবার থানায় এসে আশ্রয় নিয়েছে। তার অভিভাবকের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।