দেশে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের প্রবণতা কমাতে আগামী শনিবার (১১ জুলাই) এর মধ্যে সব বেসরকারি ক্লিনিকে লেবার রুম (স্বাভাবিক প্রসবকক্ষ) স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করলে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিল করে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সোমবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি (বিএমএস) আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সব বেসরকারি ক্লিনিকে মিডওয়াইফ (ধাত্রী) নিয়োগ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে গর্ভবতী নারীরা স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাবেন এবং স্বাভাবিক প্রসবে আরও উৎসাহিত হবেন।
তিনি বলেন, দেশে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। স্বাস্থ্যসেবার একটি অংশ অতিমাত্রায় মুনাফাকেন্দ্রিক হয়ে পড়ায় রোগীর কল্যাণের পরিবর্তে অর্থ উপার্জনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যখাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
মন্ত্রী বলেন, একসময় দেশে অধিকাংশ সন্তান জন্ম হতো স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে অভিজ্ঞ দাইয়ের সহায়তায় নিরাপদ প্রসবের দীর্ঘ ঐতিহ্য ছিল। কিন্তু বর্তমানে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ানের প্রবণতা বেড়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই কিছু বেসরকারি ক্লিনিক ও দালালচক্র গর্ভবতী নারী ও তাদের পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সিজার করাতে উদ্বুদ্ধ করছে। অনেক ক্ষেত্রে ‘অপারেশন না করলে মা বা সন্তান বাঁচবে না’—এমন আশঙ্কা তৈরি করে পরিবারকে সিজারিয়ানের সিদ্ধান্তে বাধ্য করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মা ও সন্তানের জীবন নিয়ে ঝুঁকি নিতে না চাওয়ায় পরিবারগুলো সহজেই এই ফাঁদে পড়ে। এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মানুষের কাছে চিকিৎসকরাই আল্লাহর পর সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা। তাই চিকিৎসা পেশায় নৈতিকতা, সততা ও দায়িত্বশীলতা আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।