২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আলো ছড়ানো কিলিয়ান এমবাপ্পের স্বপ্ন থেমে গেল সেমিফাইনালের মঞ্চে। স্পেনের বিপক্ষে প্রত্যাশিত ছন্দে খেলতে না পেরে ২-০ গোলের হারে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ফ্রান্স। ম্যাচ শেষে হতাশায় মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ফরাসি অধিনায়ক এমবাপ্পে।
ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই এমবাপ্পেকে কঠোরভাবে মার্কিং করে স্পেনের রক্ষণভাগ। পুরো ম্যাচজুড়ে নিজের স্বাভাবিক গতি ও আক্রমণাত্মক খেলায় ফিরতে পারেননি এই তারকা ফরোয়ার্ড। ম্যাচের ২২তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন মিকেল ওইয়ারজাবাল। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮তম মিনিটে পেদ্রো পোরোর দুর্দান্ত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও ম্যাচে ফিরতে পারেনি ফ্রান্স।
উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল অলিসের মতো সতীর্থরা এমবাপ্পেকে কার্যকরভাবে বল জোগাতে ব্যর্থ হন। অন্যদিকে মাঝমাঠে রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজের নিয়ন্ত্রণে ফরাসিদের আক্রমণভাগ কার্যত নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে। পুরো টুর্নামেন্টে ৮ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট করে ফ্রান্সকে সেমিফাইনালে তুলেছিলেন এমবাপ্পে। ম্যাচের পর ম্যাচ নিজের অসাধারণ নৈপুণ্যে দলকে এগিয়ে নিলেও স্পেনের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি তিনি।
এর আগে ২০১৮ বিশ্বকাপে মাত্র ১৯ বছর বয়সে ফ্রান্সকে শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এমবাপ্পে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও ফাইনালে হ্যাটট্রিক করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন তিনি। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্যক্তিগতভাবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেও দলকে ফাইনালে তুলতে ব্যর্থ হলেন এই ফরাসি তারকা।
এই পরাজয়ের মাধ্যমে স্পেনের বিপক্ষে টানা তৃতীয় বড় টুর্নামেন্টের নকআউট ম্যাচে হারের তিক্ত স্বাদ পেল ফ্রান্স। এর আগে ২০২৪ ইউরো এবং ২০২৫ উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালেও স্পেনের কাছে হেরেছিল তারা। শেষ বাঁশি বাজার পর নিজের জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন কিলিয়ান এমবাপ্পে। যে জার্সি গায়ে বহুবার ফ্রান্সকে সাফল্য এনে দিয়েছেন, সেই জার্সিতেই চোখের জল লুকিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। দুর্দান্ত এক বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলেও এমবাপ্পের বিদায় হয়ে রইল ট্র্যাজিক এক অধ্যায়।
খেলা