আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে নামতে শুরু করেছে মার্কিন বিশেষ এয়ারবর্ন সেনা

detaillogo
ডেস্ক নিউজ
৩১ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৫
PostImage

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র।


ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।


সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভিজাত ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের সদস্যরা ইতোমধ্যে উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এই বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্যারাট্রুপাররা দ্রুত মোতায়েন ও আক্রমণাত্মক অভিযানে দক্ষ হিসেবে পরিচিত।


মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্পের অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের ঘোষণার পরপরই এই বাহিনী সেখানে পাঠানো হচ্ছে। একই সময়ে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ কী হবে তা বিবেচনা করছেন।


এর আগে গত ১৮ মার্চের এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে, যা প্রয়োজনে ইরানের ভেতরেও সামরিক অভিযান চালানোর সুযোগ তৈরি করবে।


নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্রাগ থেকে পরিচালিত এই ডিভিশনের সেনারা ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনী, মেরিন ও বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হবে। গত সপ্তাহেই প্রায় ২,৫০০ মেরিন সদস্য সেখানে পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে।


তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে এই সেনাদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত বাহিনীর মধ্যে রয়েছে ডিভিশনের সদর দপ্তরের অংশ, লজিস্টিকস ইউনিট এবং একটি ব্রিগেড কমব্যাট টিম।


যুক্তরাষ্ট্র এখনো সরাসরি ইরানের ভেতরে সেনা পাঠানোর কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।


বিশ্লেষকদের মতে, এই সেনারা সম্ভাব্য সংঘাতে বিভিন্ন কৌশলগত মিশনে ব্যবহৃত হতে পারে। এর মধ্যে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখল কিংবা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো পদক্ষেপও থাকতে পারে।


এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, সামরিক অভিযানের প্রধান লক্ষ্যগুলো আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অর্জনের চেষ্টা করা হবে। এরপর হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে কীভাবে পড়ে, সেটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।