ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে বড় ধরনের ধস নেমেছে আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারেও।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। যুদ্ধ বন্ধে স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা না থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে তেলের দামে।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ইরান আগে থেকেই হুমকি দিয়ে আসছিল, যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হলে তারা এই পথ বন্ধ করে দিতে পারে।
এরই মধ্যে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ১০৬ ডলারের বেশি হয়েছে। একইভাবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দামও ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির কোনো স্পষ্ট সময়সীমা না থাকায় বাজারে অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
শুধু জ্বালানি বাজারই নয়, এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও। জাপানের নিক্কেই, দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি এবং হংকংয়ের হ্যাং সেন সূচকে পতন দেখা গেছে। পাশাপাশি মার্কিন বাজারের ফিউচার সূচকও নিম্নমুখী, যা নতুন করে অর্থনৈতিক উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শুধু জ্বালানি খাত নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।