মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সফলভাবে তাদের বহুল প্রতীক্ষিত আর্টেমিস-২ মিশন মহাকাশ অভিযানের সূচনা করেছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ৫৩ বছরের বেশি সময় পর আবারও চাঁদের উদ্দেশে মানুষ পাঠানোর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে এই অভিযান শুরু হয়। বহু বছর পর মানুষবাহী মহাকাশযান চাঁদের পথে যাত্রা করায় বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ব্যবহৃত ক্যাপসুলটি প্রায় ১৫ ফুট চওড়া ও ৯ ফুট উঁচু। উৎক্ষেপণের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি কক্ষপথে পৌঁছাবে, যেখানে নভোচারীরা বিভিন্ন পরীক্ষা–নিরীক্ষা পরিচালনা করবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে এটি চাঁদের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতি নেবে।
এই মিশনে অংশ নিয়েছেন চার নভোচারী—রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং জেরেমি হ্যানসেন। তাদের মধ্যে হ্যানসেন কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি-এর প্রতিনিধি।
উৎক্ষেপণের সময় কেনেডি স্পেস সেন্টার এলাকায় হাজারো মানুষের উপস্থিতি ছিল। রকেটটি আকাশে উঠতেই উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ।
তবে এই অভিযানে চাঁদে অবতরণের পরিকল্পনা নেই। প্রায় ১০ দিনের এই মিশনে নভোচারীরা চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণ করবেন এবং মহাকাশযানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও নিরাপত্তা যাচাই করবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভবিষ্যতের বৃহৎ লক্ষ্য অর্জনের প্রস্তুতি। অ্যাপোলো-১৭ মিশন-এর পর এই প্রথম মানুষ চাঁদের পথে রওনা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে চাঁদ ও মঙ্গলগ্রহে মানব অভিযান বাস্তবায়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এমআর