আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-এর প্রধান ফাতিহ বিরল সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সংকট অতীতের বড় সংকটগুলোকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লে ফিগারো’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি ১৯৭৩ সালের তেল সংকট, ১৯৭৯ সালের তেল সংকট এবং ২০২২ সালের জ্বালানি সংকট—এই তিনটি বড় জ্বালানি সংকটের সম্মিলিত প্রভাবের চেয়েও গুরুতর রূপ নিয়েছে।তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি অবরোধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, যা ইতিহাসের অন্যতম গুরুতর সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইইএ প্রধানের মতে, এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে উন্নয়নশীল দেশগুলো। তেলের উচ্চমূল্যের কারণে এসব দেশে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়বে, মুদ্রাস্ফীতি ত্বরান্বিত হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়বে। এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারির পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বেড়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ০.৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং নিউইয়র্ক লাইট অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১১৫ দশমিক ১৭ ডলারে পৌঁছেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়বে এবং এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে পড়তে পারে।