প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের এখনই সময়। জনগণের সমর্থন নিয়েই সরকার ‘জুলাই সনদ’সহ দলীয় ইশতেহারের প্রতিটি অঙ্গীকার পূরণ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই দেশের জনগণের সামনে বিস্তারিত ইশতেহার উপস্থাপন করা হয়েছিল এবং রাষ্ট্র মেরামতের অঙ্গীকার করা হয়েছিল। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নেই এখন কাজ করছে সরকার।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনজীবনে শান্তি-নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি দেশের বৃহৎ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলেও মন্তব্য করেন।
শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কর্মমুখী করা জরুরি। অতীতে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।
নারীর নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী—তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে উন্নয়ন টেকসই হবে না। বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও জনগণের কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার ভর্তুকির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে, তবে এখনো অনেক অপূর্ণতা রয়ে গেছে। একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে হলে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।