ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক অভিযানের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে ব্রিফিং দেওয়ার খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) একপর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুড তেল-এর দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলার ছাড়িয়ে যায়। তবে দিনের শেষভাগে তা কিছুটা কমে ১১৪ ডলারে নেমে আসে। ইউক্রেন যুদ্ধ-এর পর এমন ঊর্ধ্বগতি আর দেখা যায়নি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় দেশটির ওপর ‘স্বল্পমেয়াদী কিন্তু শক্তিশালী’ বিমান হামলার পরিকল্পনা করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সচল করতে সেখানে সেনা মোতায়েনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। চলমান উত্তেজনা ও অবরোধের কারণে এই পথ কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে নতুন করে হামলা হলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় ধস নামতে পারে। এর প্রভাব শুধু জ্বালানিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি ও বিমান ভাড়া বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প তেল খাতের নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি মোকাবিলার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে। এরই প্রভাব ইতোমধ্যে এশিয়ার শেয়ারবাজারে দরপতনের মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে।