ইরানের উপকূলীয় অঞ্চল ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারে সাম্প্রতিক হামলার পর দেশটির সামরিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। ইরানের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের ‘কৌশলগত ধৈর্যের’ নীতি থেকে সরে এসে এখন থেকে যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে কঠোর ও বিধ্বংসী প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
তেহরান থেকে প্রকাশিত একাধিক সামরিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের ভূখণ্ড, জাতীয় স্বার্থ কিংবা অর্থনৈতিক অবকাঠামোর ওপর আঘাতকে সরাসরি যুদ্ধের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ইরানি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “শত্রুরা যদি আবারও ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের দুঃসাহস দেখায়, তাহলে তাদের জন্য এমন বিস্ময় অপেক্ষা করছে, যা তারা কল্পনাও করতে পারবে না।”
তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য যেকোনো সংঘাতে ইরান নতুন প্রজন্মের মারণাস্ত্র, আধুনিক যুদ্ধকৌশল এবং যুদ্ধের নতুন ক্ষেত্র ব্যবহার করবে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি আক্রমণাত্মক অবস্থানে রয়েছে তেহরান। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শুধু সরাসরি সামরিক হামলাই নয়, ইরানের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টাকেও শত্রুতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নীতিতে সমর্থন দেওয়া দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালিতে চলাচল কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলেও সতর্ক করেছে ইরান।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির সক্ষমতা রয়েছে বলে আবারও দাবি করেছেন দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই নতুন অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় ইরান এখন সরাসরি প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত—এমন বার্তাই দিয়েছে তেহরান।